
শেখ সাদী সুমন জেলা প্রতি নিধী ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ভিজিট মাত্র সামান্য, লক্ষ্য শুধু সেবা! ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘গরিবের ডাক্তার’ সোলায়মান এখন সাধারণ মানুষের শেষ ভরসা।”
চিকিৎসা সেবার নামে যেখানে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার মহোৎসব চলে, সেখানে ব্যতিক্রম এক নাম ডা. মোঃ সোলায়মান। বর্তমান সময়ে যখন কিছু অসাধু চক্র চিকিৎসা খাতকে স্রেফ ব্যবসায় পরিণত করেছে, তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছেন এই মানবিক অর্থোপেডিক সার্জন।
দালালদের রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি
অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একটি শক্তিশালী দালালচক্র সবসময় তৎপর থাকে। রোগী আসা মাত্রই তারা ‘দ্রুত অপারেশন’ বা ‘এখানে চিকিৎসা ভালো হবে না’—এমন ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়।
এই চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ডা. সোলায়মান বলেন, “হাড় ভাঙলেই সঙ্গে সঙ্গে অপারেশন করতে হবে—এটি একটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা এবং দালালদের অপপ্রচার। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক প্লাস্টার ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই রোগী সুস্থ হওয়া সম্ভব।” তিনি রোগীদের সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছেন—দালালদের খপ্পরে না পড়ে আগে সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সরকারি হাসপাতালের প্রতি আস্থা ফেরানোর লড়াই
বর্তমানে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকলেও ডা. সোলায়মানের মূল লক্ষ্য সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের হারানো বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা। তিনি জানান, সাধারণ হাড়ভাঙার প্রায় সব অপারেশনই সদর হাসপাতালে করা সম্ভব। অহেতুক প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে হাজার হাজার টাকা নষ্ট না করার জন্য তিনি রোগীদের অনুরোধ জানান।
গরিবের বন্ধু: স্বল্পমূল্যে আধুনিক সেবা
সরকারি দায়িত্ব পালন শেষে প্রতিদিন বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের একটি প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখেন তিনি। তবে সেখানেও তার অগ্রাধিকার ‘অসহায় ও হতদরিদ্র’ মানুষ। নামমাত্র মূল্যে বা অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যেও তিনি চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।
চিকিৎসার বিশেষ টিপস: ‘২৮ দিনের রহস্য’
হাড়ভাঙা রোগীদের সচেতন করতে তিনি একটি বৈজ্ঞানিক তথ্য সামনে এনেছেন। ডা. সোলায়মানের মতে:
হাড় ভাঙার পর ২৮ দিনের মধ্যে অপারেশন করা সবচেয়ে নিরাপদ এবং উত্তম।
নির্ধারিত সময়ের পরে অপারেশন করলে হাড় জোড়া লাগাতে বাড়তি ‘বোন গ্রাফট’ বা হাড়ের গুড়োর প্রয়োজন হতে পারে, যা জটিলতা বাড়ায়।
জনমনে প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ডা. সোলায়মানের মতো সাহসী ও মানবিক চিকিৎসকের সংখ্যা এই সমাজে খুবই কম। তিনি শুধু প্রেসক্রিপশন লেখেন না, বরং রোগীদের দালালদের হাত থেকে বাঁচাতে সঠিক দিকনির্দেশনাও দেন। চিকিৎসা খাতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে ডা. সোলায়মানের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সবাই।
একজন ভুক্তভোগী রোগী বলেন, “হাসপাতালে ঢোকার পর থেকেই দালালরা আমাদের ভয় দেখাচ্ছিল। পরে সোলায়মান স্যারের পরামর্শে সদর হাসপাতালেই খুব অল্প খরচে চিকিৎসা নিয়ে এখন আমি সুস্থ।”
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply