
শেখ সাদী সুমন , ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ইটভাটা মালিকদের বিশাল মিলনমেলায় ঝরল পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। প্রশাসনের বৈষম্যমূলক আচরণ, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিজনাল তৎপরতা এবং তথাকথিত ‘অপসাংবাদিকদের’ দৌরাত্ম্য নিয়ে রীতিমতো বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জেলার ইটভাটা মালিকরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) শহরের মৌলভীপাড়াস্থ স্মৃতি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দৌলত ব্রিকস এন্ড কোং-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এই ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান।
সাবেক নেতৃত্বের ব্যর্থতায় ক্ষোভ
সভায় উপস্থিত শতাধিক মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে এই প্রথম এত বিশাল সংখ্যক মালিক এক টেবিলে বসেছেন। ইতিপূর্বে যারা নেতৃত্বে ছিলেন, তারা সাধারণ মালিকদের স্বার্থ না দেখে তাদের বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন। এমনকি সমিতির কাজ কী, তাও তাদের জানানো হয়নি।
৫ দফা দাবিতে আল্টিমেটাম
বিজয়নগরের টিএনসি ব্রিকস ফিল্ডের মালিক কাজী রফিকুল ইসলাম সভায় মালিকদের পক্ষ থেকে ৫টি কঠোর দাবি উত্থাপন করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ইটভাটা বন্ধ করতে হলে সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অথবা ব্যাংক থেকে ভর্তুকি দিয়ে ব্যবসা স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া মাটি কাটার অনুমতি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দূরত্বের আইন ১০০০ মিটার থেকে কমিয়ে ৪০০ মিটার করা এবং লাইসেন্স জটিলতা নিরসনে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানানো হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও অপসাংবাদিকতা নিয়ে তোপ
মতবিনিময় সভায় মালিকরা প্রশ্ন তোলেন, “পরিবেশ আইন কি শুধু ইটভাটা মালিকদের জন্যই প্রযোজ্য?” তাদের অভিযোগ, সারা বছর কোনো খবর না থাকলেও মৌসুম শুরু হলেই পরিবেশ অধিদপ্তর ‘আইন প্রণয়নের’ নামে হয়রানি শুরু করে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply