
শেখ সাদী সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধী রিপোর্টোর
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সরাইল উপজেলা অরুয়াইল ইউনিয়ন পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগ নামে দুর্নীতির আখড়া।
মোঃ কবির মিয়া, পিতা হাজী আসব আলী ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এ, জি, এম মোঃ আতাউর রহমান ছিদ্দিকীর সহযোগিতায় এলাকার বিভিন্ন ভাবে টাকা দিয়ে টিনের ঘরে ও বিল্ডিংয়ে অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দিচ্ছে। অনেকেই টাকা দিয়েও সঠিক সময় বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন পাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী গ্রাহক, দামাউড়া গ্রামে পশ্চিমপাড়া লিলু মিয়ার স্ত্রী ফুলেহা বেগম ও তার মেয়ে, মোছাঃ আছমা সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আমরা ৩/৪ বছর আগে ১১ হাজার টাকা দিয়েছি কবির মিয়ার কাছে কিন্তু কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন পাইনি। অনেক বার অফিসে গেলে তারা কোনো বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যাপার সঠিক কোনো উত্তর দেয়নি। তারা বলেন কবিরের কাছে যাও। পরে ২০২৩ সালে যখন আবার কবিরের কাছে বলি, উনি বলে ৩৫ হাজার টাকা দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দিব। অনেক কষ্ট করে ২৯ হাজার টাকা দেয় কবিরকে কিন্তু ২৯ হাজার টাকা নিয়েও বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দেয়নি। কবির বলেন, আরও বাকি ৫ হাজার টাকা দিলে, বিদ্যুৎ লাইন দিব। নয়তো দিব না। কিছুদিন পরে ঋণ করে টাকা দেওয়ার পর আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দেয়। পুরাতন একটা খুটি ও একটা ট্রান্সফার্মা দেন।
অতঃপর মৌখিক ভাবে প্রায় অর্ধশত ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ৩/৪ বছর আবার সর্ব নিম্ন ১/২বছর ও ৩/৪ মাস ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন পাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী গ্রাহক, হরিপুর, মোঃ হাজী মজনু মোল্লা, পিতা, মোঃ ছাদির মোল্লা, তিনি বলেন, আমার ডকের পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কবিরের কাছে পরামর্শ চাইলে কবির বলেন, আমি পল্লী বিদ্যুৎ এর স্টাফ, সংযোগের ব্যাপারে আমি বাড়িতে গিয়ে কথা বলবো। অতঃপর ২দিন পর আমার বাড়িতে এসে বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ আপনার ডকে দিলে খরচ ৩ লক্ষ টাকা লাগবে। আমি কবিরের কথা বিশ্বাস করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য আমার নিকট হইতে (আড়াই লক্ষ) টাকা দিয়েছি। কবির বলেন, আমি আপনার বিদ্যুৎ সংযোগ ৮ দিনের মধ্যে দিব। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর কবির লাপাত্তা।
মাঝে মধ্যে দেখা হলে বলে, এই মাসে না, সমনের মাসে আসবে এখন সমস্যা। এই ভাবে ৭মাস ঘুরানোর পর, বিদ্যুৎ অফিস থেকে ৭মাস পর সরকারি ভাবে ফি বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়। যখন আমার বাড়িতে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য আসে, তখন তারা বলেন, আপনার ভাগ্য ভাল আপনি ফি সংযোগ পাইছেন। তখন আমি বলি ৭ মাস আগে কবির কে আড়াই লক্ষ টাকা দিয়েছি। তারা বলেন, আপনি টাকাটা ফেরত নিয়ে নেন। তখন কবির কে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলি। সে বলে আপনার টাকা প্রতিমাসে বিদ্যুৎ বিলের সাথে দিয়ে দিব। কিন্তু এই পর্যন্ত কোনো টাকায় দেয়নি। আমাকে কোনো বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য এই পর্যন্ত রসিদ দেয়নি।
আমি প্রশাসন, মিডিয়া ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই, আমার (আড়াই লক্ষ)টাকা, (রশিদ) যাতে পাই। আর এইরকম হয়রানি ও প্রতারণা যাতে দ্বিতীয় বার কারো সাথে না করতে পারে তার সঠিক বিচারের জন্য অনুরোধ করছি।
ভুক্তভোগী গ্রাহক, দামাউড়া দক্ষিনপাড়া রাফি উদ্দিন, পিতা,আফতাব উদ্দিন, কাছ থেকে ১লক্ষ টাকার বিনিময়ে ৩ তালা বিল্ডিংয়ের কাজ চলা কালিন বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দেয়। যেখানে ৩ তারের লাইন দেওয়ার কথা কিন্তু ২ তারের লাইন দেয়। সাংবাদিকদের কাছে কবির সবকিছু নিজের মুখে শিকার করেন।
সাংবাদিকরা বিদ্যুৎ অফিসে এজিএম আতাউর রহমান ছিদ্দিকী কে এই বিষয়ে বললে, উনি বলেন, কাজ চলা কালিন কোনো বিল্ডিংয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়নি। বিদ্যুৎ অফিসে রশিদ চাড়া কোনো টাকা নেয় না। রাফি উদ্দিন উনিতো আবেদনি করেননি, উনাকে আমরা লাইন দেয়নি। কবিরের কথা বলে উনি বলেন কবির যদি থাকে বাহিয়ের লোক অফিসের কোনো লোক না। আপনারা দেখেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক, দামাউড়া ওমর ফারুকের কাছ থেকে শেসের বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দিয়ে ৯৫ হাজার টাকা নেয়। কবির নিজের মুখে শিকার করেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক,পাকশিমুল বিদেশ প্রবাসী মোঃ মিলন তালুকদার, পিতা, মৃত ইদ্রিস তালুকদার ও বাড়ির কেয়ারটেকার নুরালমের কাছ থেকে সাংবাদিকরা বিল্ডিংয়ের কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে, উনি বলেন, ৬তালা বিল্ডিংয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ লাইলের খুটির জন্য ৫০ হাজার টাকা দেয়। এখনো বিল্ডিংয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছি না।
কবির তার নিজের মুখে শিকার করেন, গরিব গ্রাহকদের প্রতি মাসে ৩টা করে মিটার আমি নিজে সাহায্য করি আর সরকারি ভাবে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন, খুটি ও টান্সফার্মার,বাড়িতে গিয়ে লাইন লাগানো সহ, ফি দেয়। আমাদের বেতন দেয় মাস শেষে। তাই আমরা গ্রাহকদের কাছ থেকে মাস শেষের আগেই বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন দেওয়ার সময় ১০/১৫ হাজার টাকা নেয়।
আর আমি যা কিছু কাজ করি সব কিছু পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের এজিএম আতাউর রহমান ছিদ্দিকীকে নিয়েই করি কারণ উনার সাইন ছাড়া কি আমি কিছু করতে পারবো তাই যা কিছু করি উনাকে নিয়েই করি।
এলটি আলামীন টেস্টিং ইঞ্জিনিয়ার, সে মিটার টেস্ট করে ও বিতরণ করার সময় গাহক থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে মিটার বিতরণ করে। যারা টাকা না দেয়, তাদের কে হয়রানি শিকার হতে হয়।
সব কিছুর বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা দুপুর ১.১০ মিনিটে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গেলে অফিসের অফিসারদের কাউকেই পাননি অফিসের অবস্থা নোংরা পরিবেশ, অভিযোগ কেন্দ্র নেই কোনো চেয়ার-টেবিল, আছে অনেক গুলো কাপড় নিচে চট পালিয়ে একজন লোককে ঘুমাতে দেখেন। টয়লেটের দরজার সামনে, অনেক গুলো প্রয়োজনীয় তার পালিয়ে রাখেন। অফিসের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় তার, কাগজ পত্র, যন্ত্র, প্লাটের নিচে এলোমেলো ভাবে পালিয়ে রাখেন।
পরে আতাউর রহমান ছিদ্দিকী কাছে ফোনে জানালে উনি বলেন, আমি এইসবের বিষয়ে কিছু জানিনা আর কবির,রহিম আবেজাবে এইগুলোতো আমাদের অফিসের কেউনা। আপনাদের কাছে যদি সঠিক তথ্য থাকে আপনাদের যা করোনিও তা করেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহক ও এলাকার মানুষের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করে,যার জন্য ভয়ে কেউ কথা বলতে চাইনা। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রশাসন, মিডিয়া কাছে তার সঠিক বিচার যাতে করেন। এইরকম ভাবে কেউ যাতে দ্বিতীয় বার আর হয়রানি ও প্রতারিত না হয়। তার জন্য সবাই বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply