
নেত্রকোনা থেকে,কামরুল হাসান
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নে কদম দেওলী গ্রামে বৈধ দলিল ভূমি দখলের মহোৎসব। বরং দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে একটি প্রভাবশালী দখলদার চক্র।
সাম্প্রতিক সময়ে এমনি একটি ঘটনা ঘটেছে বৈধ মালিকানা জমিতে মাটি ভরাট কে কেন্দ্র করে। এবিষয়াদি নিয়ে আদালতে মামলা দায় করেছেন বৈধ জমির মালিক রুমা আক্তার।
আদালতে মামলা এজাহার সূত্রে জানা যায়,
বারহাট্টা উপজেলার অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমান সাহতা ইউনিয়নে ৪নং নম্বর ওয়ার্ডের দেওলী মৌজার যাহার(জে,এল নংঃ ৪২) বিস্তীর্ণ এলাকা মালিকানা জমি।
বি আর এস অন্তর্ভুক্ত মালিকানা জমি শেফালি আক্তার নামে এক নারীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সোয়েব মিয়া গংরা দখলে নেওয়ার জন্য ঝগড়া সহ বিভিন্ন পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র স্থানীয় লাঠিয়াল বাহিনী ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মালিকানা জমি জোরপূর্বক দখল চেষ্টা করছে। শুধু দখলই নয়—আদালতের মাধ্যমে ভুয়া মামলা করে হয়রানি দিচ্ছেন প্রকাশ্যে হুমকি?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,১৯৮২ সনের বি আর এস রেকর্ড অনুযায়ী এই জমির প্রকৃত দখলদার ও মালিক মৃত সাহেরা খাতুন নামের এক মহিলা।মহিলার নামে বি আর এস খতিয়ান অন্তর্ভুক্ত। ২০০১ সনে বি আর এস সত্য দখলীকৃত জমিটি ৩৬৩০ নং দলিলমূলে ১২ শতাংশ জায়গা একই গ্রামের হালিম মিয়ার নিকট হস্তান্তর করেন মৃত, সাহেরা খাতুন ।
উক্ত জমিটি হালিম মিয়া আবার সত্য দখলকৃত জমিটি ২০১৮ সনে ১৪২২ নং সাফ দলিলমূলে তার মেয়ে রুমা আক্তার ও তাহার বোন এর কাছে ১২ শতাংশ জায়গা সাফ দলিলমূলে হস্তান্তর করেন।
এদিকে,রুমা আক্তার ২০২৫ ইং সনে ১২৩৮(Ix-I)২৪-২৫ খারিজ মূলে নামজারি করিয়া খাজনাদি পরিশোধ করে ভোগদখল করে আসছিলেন।কিন্তু একটি প্রভাবশালী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য অবৈধভাবে এই জমি দখল পাকাপোক্ত চেষ্টা করছেন।জমিটিতে চাষাবাদ ও মাটি ভরাতে এবং স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে দিচ্ছেন বাঁধা।
এ দখলের চেষ্টা প্রক্রিয়ায় কিছু ব্যক্তি জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে এক বিধবা নারীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী বৈধ জমির মালিক জানান, একাধিকবার দুই উপজেলার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দেন -দরবার হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পাছেন না রুমা আক্তার। তা স্থায়ী সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং মামলা জটিলতা তৈরি করে দখলদাররা নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।
এদিকে দখলদারদের দৌরাত্ম্যে জমি প্রকৃত মালিক হয়রানি শিকার হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। তারা অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ দখলদারদের চেষ্টা উচ্ছেদ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply