
মোহাম্মদ করিম, লামা-আলীকদম প্রতিনিধি:
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শিশু-কিশোর সমাবেশ ও কুচকাওয়াজ প্রতিযোগিতায় টানা সাফল্যের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখিয়াছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয়—এই তিন স্তরেই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের উজ্জ্বল স্বাক্ষর রাখিতে সক্ষম হইয়াছে।
চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ের কুচকাওয়াজে দৃষ্টিনন্দন ও সুশৃঙ্খল প্যারেড প্রদর্শনের জন্য বরাবরের ন্যায় চলতি বছরেও প্রতিষ্ঠানটিকে প্রশাসনের পক্ষ হইতে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। ২৯ জন ছাত্রী সমন্বয়ে গঠিত এক চৌকস প্যারেড দলের শৈল্পিক পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও দর্শনার্থীগণ।
অপরদিকে, বান্দরবান পার্বত্য জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চারটি পৃথক ক্যাটাগরির প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই শীর্ষস্থান অধিকার করিয়া কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ পুনরায় তাহার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করিয়াছে। চলতি বৎসর প্রতিষ্ঠান হইতে অংশগ্রহণ করে ৬৪ সদস্যবিশিষ্ট প্যারেডের ক্ষুদ্র ও বৃহৎ দল (প্রতিটি দলে ৩২ জন), ২৩ সদস্যের ব্যান্ড দল এবং ১৪৬ জন কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত সুসজ্জিত ডিসপ্লে দল। শিক্ষার্থীদের অনবদ্য নৈপুণ্যে বিমোহিত হইয়া গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকবৃন্দ তাহাদের প্রতি উচ্ছ্বসিত অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আরা রিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান।
ইহার পূর্বে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বৎসরের ন্যায় প্যারেড ও ডিসপ্লে—উভয় ইভেন্টেই অপরাজেয় অবস্থান বজায় রাখিয়া প্রতিষ্ঠানটি দর্শকমহলের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মঈন উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লামা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহজাহান কামাল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী, লামা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ আবদুর রব, লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ আমির হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০০১ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২২টি জাতিগোষ্ঠীর আড়াই হাজারের অধিক শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষালাভের সুযোগ পাইতেছে। পার্বত্য বান্দরবানে সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করিয়াছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানটিতে মানসম্মত শিক্ষার সহিত নিয়মিত মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, শুদ্ধাচার চর্চা এবং বহুবিধ সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হইয়া থাকে। চলতি বৎসরে উচ্চশিক্ষার সুযোগপ্রাপ্ত ৩৮ জনসহ বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রহিয়াছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply