
মো: সোবেল মিয়া, নাসিরনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগরে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং এবং অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এর মধ্যে আবার অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সন্ধ্যার পর বিশেষ করে মাগরিবের নামাজের পর লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে। অন্ধকারের কারণে অনেক দোকান নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ সংকটে পোলট্রি হাস মুরগির খামার ও ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। সামনে এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছেন না পরীক্ষার্থীরা। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরাও তীব্র গরমে দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে।
ধরমন্ডল গ্রামের বাসিন্দা কয়েকজন বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, অথচ বিল প্রায় দ্বিগুণ এসেছে। গত মাসে ২ হাজার টাকা বিল ছিল, এবার এসেছে প্রায় ৪ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করলেও কোনো সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যায় না।”
স্থানীয় বিকাশ ব্যবসায়ীরা বলেন, “বিদ্যুৎ যায় না, বরং মাঝে মাঝে আসে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলেও বিল দ্বিগুণ-তিনগুণ আসে।”
এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ও বলেন, “দেড় ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসে, কিন্তু থাকে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট। প্রচণ্ড গরম ও অন্ধকারে পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
ধরমন্ডল ইউনিয়নের গালাগাল দিয়া বলেন, “অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।”
এ বিষয়ে নাসিরনগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কাওকে সাড়া দিচ্ছেন না, “৩৩ কেভি ভোল্টের গ্রিড লাইনে ত্রুটি ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।
Leave a Reply