
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামকে তেহরান ‘অযৌক্তিক ও ভারসাম্যহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরান জানিয়েছে, যদি কোনো আক্রমণ চালানো হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘জাহান্নামের দরজা’ খোলার মতো পরিণতির মুখোমুখি হবে।
ইরানের ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের জেনারেল আলী আবদুল্লাহি আলীয়াবাদি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকি একেবারেই অসংগতিপূর্ণ। ইরানের জাতীয় সম্পদ ও অবকাঠামোকে আঘাত করার প্রচেষ্টা হবে মর্যাদাহানিকর।”
সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যাল-এ পোস্ট করে ট্রাম্প সতর্ক করেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শান্তি চুক্তি না হলে এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত না হলে ইরানকে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
ইরানি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, তারা ইতোমধ্যেই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। সূত্রগুলো দাবি করছে, মার্কিন সামরিক অভিযানগুলো ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের হুমকি কেবলই একটি প্রচেষ্টা, যা বাস্তবে কার্যকর হবে না।
হরমুজ প্রণালী, যা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ করে, এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, মানবিক ও জরুরি পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল এখনও নিরাপদ। তবে বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে সাম্প্রতিক হামলার কারণে ১৯৮ জন কর্মীকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন ষষ্ঠ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ৩৫০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলে ১৯ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতে নিহতের ঘটনা হয়েছে।
ইরান দাবি করেছে, তারা এফ-১৫ ও এ-১০ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে, যার একজন পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া কাসেম সোলাইমানি-এর পরিবারের সদস্যদের আটক সংক্রান্ত দাবি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
আগামী ৬ এপ্রিল ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও দুই পক্ষই এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply