
এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝপাড়া গ্রামে হিফজুল কুরআন একাডেমির উদ্যোগে সবক প্রদান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ২টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপাড়া, বটতলাহাট এলাকায় ৬ গম্বুজ জামে মসজিদ সংলগ্ন একাডেমির নিজস্ব প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত হিফজুল কুরআন একাডেমির এ আয়োজনে কুরআন হিফজের পাঠদান শুরু করা শিক্ষার্থীদের সবক প্রদান এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির পরিচালক মুফতি মো. শাহ্ওলিউল্লাহ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল বারেক। প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাফেজ ক্বারী মো. শহিদুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল খালিদ, বালুবাগান জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মসজিদের মুয়াজ্জিন আব্দুস সালাম এবং একাডেমির শিক্ষক সাদির আহমেদ প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে একাডেমির পরিচালক মুফতি মো. শাহ্ওলিউল্লাহ বলেন, পবিত্র কুরআনের শিক্ষা মানুষের নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুদের কুরআনের হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০২২ সালে হিফজুল কুরআন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আদর্শ ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল বারেক বলেন, পবিত্র কুরআন শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। বর্তমান সময়ে সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। হিফজুল কুরআন একাডেমির এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তিনি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নতি ও শিক্ষার্থীদের সফলতা কামনা করেন।
প্রধান মেহমান হাফেজ ক্বারী মো. শহিদুল ইসলাম খান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, কুরআন হিফজ করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও মহৎ কাজ। এ জন্য নিয়মিত পড়াশোনা, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। প্রতিদিনের পড়া নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করতে হবে এবং কুরআনের শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সন্তানদের পড়াশোনার প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আব্দুল খালিদ বলেন, কুরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন প্রজন্মকে কুরআনের আলোয় আলোকিত করতে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই। তিনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার এবং কুরআনের আদর্শ অনুসরণ করে জীবন গড়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। মনোরম ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা শিশুদের কুরআনে হাফেজ হওয়ার মহৎ যাত্রায় উৎসাহিত করেন এবং হিফজুল কুরআন একাডেমির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
© All rights reserved © 2026
Leave a Reply