
প্রতিনিধি:-কালিয়াকৈর (গাজীপুর)
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ফায়ার সার্ভিস এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার হচ্ছেন বিভিন্ন শিল্পকারখানার প্রায় ২০ হাজারের বেশি শ্রমিক। একই সঙ্গে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদেরও। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রা কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকার আশপাশে অবস্থিত ইকোনীটস লিমিটেডসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানার বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ও আশপাশ এলাকার বাসিন্দাগণ প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতের জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পার হন। কিন্তু নিরাপদে রাস্তা পারাপারের জন্য ফুটওভার ব্রিজ না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, এভাবে ঝুঁকি নিয়ে এই এলাকায় মহাসড়ক পার হতে গিয়ে ইতোমধ্যে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ইকোনীটস লিমিটেড এর কর্মীও এই সড়ক পার হওয়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় মারা গেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া অনেকেই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন এবং কেউ কেউ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হারিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ অবস্থায় দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ইকোনীটস লিমিটেডসহ আশপাশের কারখানার শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি, শ্রমিকদের পাশাপাশি স্কুলগামী শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
শ্রমিকরা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের এ দাবি উপেক্ষিত থাকলে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামার কথা বিবেচনা করবেন। তবে তাঁরা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান চান।
এ বিষয়ে ইকোনীটস লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোঃ জামাল হায়দারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য শ্রমিকদের বারংবার দাবীর প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দুর্ভোগ ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
এলাকাবাসী ও শ্রমিকদের প্রত্যাশা, দুর্ঘটনায় আরও প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের মাধ্যমে শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে এমনটাই তাঁদের দাবি।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply