
মনির খান, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নে কথিত একটি এতিমখানার নামে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার চাচই পূর্বপাড়া এলাকায় ‘ইসমাইল হোসেন এতিমখানা ও মাদ্রাসা’ নামে বাস্তবে কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকলেও কাগজে-কলমে ২৭ জন এতিম দেখিয়ে তিনি গত ১৬ বছর ধরে সরকারি অনুদানের টাকা উত্তোলন করে আসছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উল্লেখিত ঠিকানায় কোনো এতিমখানা বা মাদ্রাসার অস্তিত্ব নেই। সেখানে একটি সাধারণ বসতবাড়ি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় কখনো ‘ইসমাইল হোসেন এতিমখানা’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়নি এবং সেখানে কোনো এতিম শিশুও বসবাস করে না।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, একজন এতিম শিশুর জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে হিসেবে ২৭ জন এতিমের নামে প্রতি ছয় মাসে ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা এবং বছরে ৬ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের চেক নিয়মিত উত্তোলন করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম।
হিসাব অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে তিনি সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার টাকার বেশি উত্তোলন করেছেন। এছাড়া এতিমখানার নামে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে বিভিন্ন সময় চালসহ অন্যান্য সরকারি সহায়তাও নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় এমন কোনো এতিমখানা কখনো ছিল না। তাদের অভিযোগ, ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শামীম রেজা বলেন, “কাগজপত্র যাচাই করে চেকের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করা হয়। মাঠপর্যায়ে তদারকি কম থাকায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে। অভিযোগ পেলে আমরা সরেজমিন তদন্ত করব। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে টাকা ফেরত আদায়সহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এতিমদের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি গত ১৬ বছরে উত্তোলিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি ভাতা বা অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা, অর্থ পুনরুদ্ধার এবং সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিধান রয়েছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply