
গাইবান্ধা থেকে মোঃ আবু জাফর মন্ডলঃ
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা ও থানা এলাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং যাতায়াতের দীর্ঘ দূরত্বের কারণে ৭নং পবনাপুর ইউনিয়নের ফকিরহাটকে উপজেলা হিসেবে বাস্তবায়নের দাবি প্রায় দুই দশক ধরে জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু ২০০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে এখনো পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফকিরহাটকে উপজেলা/থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে এলাকাবাসী বহুবার মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। এ দাবির পক্ষে মাননীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার (রংপুর), স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব (ঢাকা) এবং গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক বরাবর একাধিকবার এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মহামান্য হাই কোর্ট বিভাগে দায়ের কৃত রীট পিটিশন নম্বর ৫৬৩৯/২০১৬ তবুও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর মতে, পলাশবাড়ী উপজেলা সদর থেকে ফকিরহাটের দূরত্ব ১৮ কিঃ গাইবান্ধা সদর থেকে ১৯ কিঃ গোবিন্দগঞ্জ সদর ৩০ কিঃ অনেক হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা পেতে দারুন ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন সরকারি কাজের জন্য দূরপাল্লার যাতায়াত করতে গিয়ে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্টান প্রায় ১০০ শতাধিকসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা বাস্তবায়ন করার লক্ষে সভাপতি, স্থানীয় সমাজসেবক মোঃ আবু তাহের খন্দকার (নব) বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানিয়ে আসছি। ফকিরহাটকে উপজেলা ঘোষণা করা হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত হবে এবং প্রশাসনিক সেবা সহজলভ্য হবে।”
এলাকার সুধীজনরাও একই দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করে দ্রুত ফকিরহাটকে উপজেলা হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আরো উল্লেখ থাকে যে, এ উপজেলা বাস্তবায়নের লক্ষে বিগত গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবু মোহাম্ম ইউসুফ তদন্ত করে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করে সরকার জনগণের ভোগান্তি লাঘব করবে এবং অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply