
মো. শাহীন আলম গাইবান্ধা জেলা করেসপন্ডেন্ট:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে ২৯ গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত ও জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান সরকার কে দাঁড়িপাল্লা মার্কা বিজয়ী করার লক্ষ্যে ১১ নং হরিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আয়োজনে এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) সুন্দরগঞ্জ উপজেলাধীন ১১ নং হরিপুর ইউনিয়নের কাশিমবাজার নাজিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট সমর্থিত ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান।
অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন, সুন্দরগঞ্জে জামায়াতে ইসলামী পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছে। আপনাদের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল আজিজকে মিথ্যা মামলায় দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। তার লাশ দেশে আনা যায়নি, জানাজাও আদায় করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে জুয়েল রানা, ফরিদুল ইসলাম ও সোহানুর রহমান সোহানকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং শাহাবুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও জান্নাত মাকাম কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ ও ২০০১ সালে সুন্দরগঞ্জ থেকে জামায়াত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। ২০১৪ সালে আমি নিজে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। জনগণ আমাদের কাজ দেখে ভোট দিয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মাওলানা আব্দুল আজিজের সময়ে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা আজও মানুষ স্মরণ করে।
২০১৪ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাকে না দেখেই মানুষ ব্যাটারি মার্কায় ভোট দিয়েছিল। শপথ নিতে গিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। এরপর আবার বরখাস্ত ও মামলা দেওয়া হয়। তবুও দায়িত্বে থাকাকালীন মানুষের উন্নয়ন ছাড়া আর কিছু করিনি। এক টাকার দুর্নীতির অভিযোগও কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।
জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারাদেশে জামায়াত থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রীরা তিনটি মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে সামান্য দুর্নীতির প্রমাণও পাওয়া যায়নি। অথচ অন্যায়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে, শুধুমাত্র দলকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত মানুষের মুখে এখন একটাই কথা, দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয়ী করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে, এই প্রত্যাশায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
এ সময় তিনি নির্বাচনসংক্রান্ত অনিয়ম ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
১১ নং হরিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির জেলা আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম, সুন্দরগঞ্জ পৌর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ একরামুল হক, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি ইব্রাহিম আলী আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক বদরুল আমিন, আমার বাংলাদেশ পার্টির উপজেলা আহ্বায়ক তাজুল ইসলাম, এলডিপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম,শিবির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান,হরিপুর ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি আমজাদ হোসেন প্রমূখ।
এতে সঞ্চালনা করেন-মাওলানা হারুন অর রশিদ।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply