
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদ সংক্রান্ত সরকারি ঘোষণাপত্র ও অফিস আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি রুল জারি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এই রিটটি দায়ের করেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া নিজে।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ধারা ১০১ ও ১০২ অনুযায়ী জারিকৃত ঘোষণাপত্র ও অফিস আদেশ কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
আদালত সূত্র জানায়, উত্তরদাতা নং–২ এর স্বাক্ষরে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারিকৃত ঘোষণাপত্র এবং উত্তরদাতা নং–৩ এর স্বাক্ষরে ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারিকৃত অফিস আদেশের কার্যকারিতা চূড়ান্ত শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত থাকবে।
আইনজীবী ও প্রশাসনিক সূত্র জানায়, যেহেতু ঘোষণাপত্র ও অফিস আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রয়েছে, সে কারণে চেয়ারম্যান পদে আপাতত বহাল থাকছেন মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া। চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত তার পদে কোনো আইনগত বাধা নেই।
রিটকারী চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান ভূইয়া বলেন,
“আমি আইনের শাসন ও আদালতের মর্যাদার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী ন্যায়বিচারের আশায় হাইকোর্টে রিট করেছি। আদালত অফিস আদেশের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছেন, ফলে আমার চেয়ারম্যান পদে আপাতত বহাল থাকার বিষয়ে আইনগত ভিত্তি রয়েছে।”
তবে ২৯ জানুয়ারি হাইকোর্টের স্থগিত আদেশের পরও নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কৌতূহল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসক মো. রেজাউল করিম বলেন,
ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে পরিষদের দায়িত্ব পালন করছি। আদালতের স্থগিতাদেশের বিষয়ে আমার জানা নেই।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, স্টে অর্ডার আমি এখনও পাইনি। সদর দফতরের আদেশ না পেলে কিছু বলা কঠিন।
আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি বা ইউনিয়ন পরিষদ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইন নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ বাধ্যতামূলক। আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা অবস্থায় প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হলে তা আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সচেতন ব্যক্তিবর্গদের মতে, এই ঘটনায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও আদালতের আদেশ—এই তিনের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চার সপ্তাহ পর রুলের শুনানিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি অবস্থান নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply