
আব্দুর রউফ ভূঁইয়া, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জে স্বামী ও একমাত্র পুত্র সন্তানকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া পঞ্চাশোর্ধ্ব বিধবা নারী সুফিয়া আক্তার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটা থেকে তাকে উচ্ছেদ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে স্বামীর আপন ছোট ভাই নিজাম উদ্দিন এবং নিজাম উদ্দিনের মেয়ের জামাতা মো. মামুন মিয়া।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অভিযুক্তরা তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে এবং জোরপূর্বক বসতভিটা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে নগদ অর্থ লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় সুফিয়া আক্তার ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত জালিয়া পাড়া গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চৌদ্দশত মৌজায় ১১৭০ নং খতিয়ানে ২৯৪৭, ৩১০০, ৩১০৬, ৩১১১ ও ৩২৬১ নং দাগে মোট ১ একর ২৭ শতাংশ জমির মালিক সুফিয়ার স্বামী নুরন্নবী, তার ছোট ভাই নিজাম উদ্দিন এবং অন্যান্য ওয়ারিশদার ইসমাঈল, ইসরাঈল ও ছায়েম উদ্দিন।
পরবর্তীতে নুরন্নবী ও তার পুত্র মবিনের মৃত্যুর পর নুরন্নবীর স্ত্রী সুফিয়া ও তাদের চার কন্যা মোছা. রেবা সুলতানা, মালা আক্তার, রত্না আক্তার ও স্বপ্না আক্তারের নামে বিএরএস ২৫-২৪৯৩ খতিয়ানে মোট ৩০ শতাংশ জমির মালিকানা রেকর্ডভুক্ত হয়। এর মধ্যে ৩১১১ নম্বর দাগে ৭.৮৬ শতাংশ, ৩২৬১ নম্বর দাগে ৭.১৪ শতাংশ, ২৯৪৭ নম্বর দাগে ১৩.৫ শতাংশ এবং ৩১০৬ নম্বর দাগে ১.৫ শতাংশ জমি রয়েছে।
সুফিয়ার অভিযোগ, তার দেবর নিজাম উদ্দিন, চাচাতো দেবর হারিছ মিয়া এবং জামাতা মামুন মিয়া ওই জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ সময় প্রাণনাশের হুমকি ও নগদ অর্থ লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
চৌদ্দশত ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন জুয়েল বলেন, সুফিয়া স্বামী ও সন্তান হারিয়ে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। তার কোনো উপার্জনক্ষম পুরুষ সদস্য নেই। চারজন কন্যা সন্তান রয়েছে। মূলত মেয়েদের থাকার জন্যই তিনি একটি ঘর নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার দেবর নিজাম উদ্দিন, চাচাতো দেবর হারিছ মিয়া ও জামাতা মামুন মিয়া তাকে উচ্ছেদের জন্য সব ধরনের চেষ্টা করছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার শালিস করা হলেও অভিযুক্তরা তা মানতে রাজি হয়নি।
অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ‘‘আমার ভাই মারা গেছে আমার কোনো ভাতিজাও নাই। আমার মায়ের কাছ থেকেও সাড়ে ৮ শতাংশ সম্পদ লিখে নিয়েছি তাদের এখন আবার সম্পদ আসলো কোথা থেকে? বর্তমানে সুফিয়া যেখানে থাকে সেটাও আমার জায়গা।”
অন্য অভিযুক্ত মামুন মিয়া বলেন, ওই মহিলা খারাপ, তার মেয়েরা দরবারের সময় আমার পায়ে থুথু দিয়েছে। তাকে এখানে কোনো ভাবেই থাকতে দেওয়া হবে না। আপনি সাংবাদিক মায়া লাগলে আপনার বাড়িতে নিয়ে তাকে আশ্রয় দিন।
চৌদ্দশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাহার আলী বলেন, ওই মহিলাটা খুবই অসহায়। স্বামী-পুত্র সন্তান কেউই নেই। চারজন মেয়ে বিয়ে হয়েছে। তারাও বাবার বাড়িতে এসে স্বামী নিয়ে থাকার মতো একটা ঘর নেই। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের তাদের বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিক বার বসেছি। কিন্তু কাগজপত্রে জটিলতায় সমাধান করতে পারিনি। পরবর্তীতে আপডেট কাগজপত্রে সুফিয়া ও তার ৪ মেয়ের নামে বর্তমানে ৩০ শতাংশ জায়গা থাকলেও নিজাম উদ্দিন, হারিছ মিয়া ও জামাই মামুন মিয়া তাকে ঘর করতে দিচ্ছে না। নিজাম উদ্দিন একটা মামলা করেছে পরবর্তীতে আমরা সুফিয়াকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply