
সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের বিভিন্ন তেলের পাম্পে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেলের (অকটেন) মজুত থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি না করার অভিযোগ উঠেছে। পাম্প মালিকরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাপ্লাই মেশিন বন্ধ রাখায় সাধারণ চালক ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন নিয়মিত বাজার তদারকি করলেও রহস্যজনক কারণে তেলের পাম্পগুলোর অনিয়ম বরাবরই অধরা থেকে যাচ্ছে।
উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন এবং অভ্যন্তরীণ সড়কের বেশ কিছু পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, অকটেন নিতে আসা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ সরাসরি বলছে, ‘অকটেন নেই’। অথচ পাম্পের ডিপোতে খোঁজ নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাহিদামতো মজুত থাকার পরও অদৃশ্য কারণে তারা তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। অনেক ক্ষেত্রে রাতের অন্ধকারে বা গোপনে পরিচিত সিন্ডিকেটের কাছে বাড়তি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এই মজুতদারী করা হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরছি, সবাই বলছে অকটেন নেই। কিন্তু আসলে তারা তেল আটকে রেখেছে দাম বাড়ার আশায় বা অন্য কোনো সুবিধায়। প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট তো শুধু কাঁচাবাজার, মুদি দোকান আর কাপড়ের দোকানেই অভিযান চালায়; তেলের পাম্পে তাদের কোনো নজরদারি নেই কেন?”
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বিভিন্ন হোটেল বা কাপড়ের দোকানে অভিযান পরিচালনা করলেও তেলের পাম্পের এই বড় ধরনের অনিয়ম তাদের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে পাম্প মালিকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
মিরসরাইয়ের সাধারণ চালক ও সচেতন মহল অবিলম্বে তেলের পাম্পগুলোতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, দ্রুত এই কৃত্রিম সংকট নিরসন না হলে যাতায়াত ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়বে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply