
ডেস্ক রিপোর্ট
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর আর্দশ মহিলা ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষ মো. মোসলেহ উদ্দিন খান বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশের আয়োজন করেন। এই আন্দোলনের লক্ষ্য অধ্যক্ষের পদত্যাগ নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন খানকে কলেজের প্রশাসনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং নানা অপকর্মের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, অধ্যক্ষের নেতৃত্বে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ কারণে শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষার মান এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন খানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের স্লোগান ছিল, “দফা এক দাবি এক, অধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন খানের পদত্যাগ।” শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি অধ্যক্ষ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে তারা কঠোর আন্দোলনের পথে যাবেন। তাদের দাবি, অধ্যক্ষের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে তাদের অবস্থান আরও কঠোর করা হবে।
অধ্যক্ষ মোসলেহ উদ্দিন খানকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, তাকে পাওয়া যায়নি। অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বেড়ে গেছে এবং আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে কলেজ প্রশাসন এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন কর্তৃক দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ প্রকাশ করা হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, তারা কলেজের শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার মান সুরক্ষিত রাখতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। শিক্ষার্থীদের একাংশ মন্তব্য করেন, “আমরা চাই আমাদের শিক্ষার পরিবেশ নিরাপদ এবং স্বচ্ছ হোক। অধ্যক্ষের পদত্যাগ আমাদের ন্যায্য দাবি, যা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।”
হোসেনপুর আর্দশ মহিলা ডিগ্রী কলেজের এই আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলার শিক্ষা পরিবেশে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচী হতে পারে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply