
সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
এক সময় যার অপেক্ষায় দরজায় চোখ রাখত সাধারণ মানুষ, সেই চিরচেনা ডাকপিয়নের ঘণ্টা আজ যেন স্মৃতির পাতায় বন্দি। প্রযুক্তির প্রবল জোয়ারে হাতে লেখা চিঠির আবেগ আর ডাকবাক্সের সেই লাল রঙ ফিকে হয়ে আসলেও, আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।
হারানো দিনের সেই ‘খুশির জোয়ার’
একটা সময় ছিল যখন দূর-দূরান্তের স্বজনদের খবরাখবর পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠিপত্র। রানার বা ডাকপিয়ন যখন খাম হাতে বাড়ির আঙিনায় আসত, তখন পরিবারে বইত খুশির জোয়ার। রানারের সেই হারিকেন আর লাঠির ঝুনঝুন শব্দ ছিল ভরসার প্রতীক। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে ই-মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিড়ে সেই চিঠির যুগ এখন ইতিহাস। মানুষ এখন আর কাগজের পাতায় আবেগ লেখে না, বরং স্মার্টফোনের স্ক্রিনে খুঁজে নেয় তাৎক্ষণিক সমাধান।
বিবর্তনের ধারায় সরকারি এই সম্পদ
সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পারায় ডাক বিভাগ তার পুরনো জৌলুস হারালেও একে অবহেলার সুযোগ নেই। কারণ, ডাক বিভাগ কেবল একটি সেবা সংস্থা নয়, এটি রাষ্ট্রের এক বিশাল সম্পদ এবং ঐতিহ্যের বাহক। বর্তমান বাস্তবতায় ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একে আবারও জনগণের উপযোগী করে তোলার সময় এসেছে।
যুগের প্রয়োজনে আধুনিকায়ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাক বিভাগকে টিকিয়ে রাখতে হলে কেবল চিঠিপত্রের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। একে রূপান্তরিত করতে হবে একটি পূর্ণাঙ্গ সেবা কেন্দ্রে। ইতোমধ্যে ই-কমার্স ডেলিভারি সার্ভিস, ডাক জীবন বিমা এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো আধুনিক সেবা যুক্ত হওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তবে তৃণমূল পর্যায়ে এই সেবাগুলোকে আরও জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করা জরুরি।
ফিরে আসুক ঐতিহ্যের সেই দিনগুলি
ডাক বিভাগের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে এর সেবার মান এবং গতি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। জরাজীর্ণ ডাকঘরগুলো সংস্কার করে আধুনিক ডিজিটাল সেন্টারে রূপান্তর করলে আবারও মানুষ এই সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। প্রযুক্তির যুগে চিঠির সেই পুরোনো আবেগ হয়তো ফিরবে না, কিন্তু আধুনিক সেবার মাধ্যমে
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply