
হাকিমপুর উপজেলা প্রতিনিধি,মোঃ ওয়াজ কুরনী
আর নয় কালক্ষেপণ,এবার চাই প্রজ্ঞাপন। এই শ্লোগানে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ দিনাজপুরের হাকিমপুরে আবারও পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সম্মতি আছে বলে জানান উপজেলা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ। অন্য দিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত থাকলেও সারা দেশের প্রাথমিক এর শিক্ষকদের ৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্য আবারও কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে সহকারী শিক্ষকরা।
উপজেলার কন্দরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ মাসুদ রানা ও মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্য আবারও কর্মবিরতি শুরু করেছে। আর কোন কালক্ষেপণ নয়, এবার আমরা সরাসরি প্রজ্ঞাপন চাই। সম্প্রতি সময়ে শিক্ষকদের ন্যায্য দাবী আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষককে পুলিশের নির্যাতন ও হামলা মামলার শিকার হতে হয়েছে। তখন আলোচনা সাপেক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয় অতি দ্রুত সময়ে সহকারী শিক্ষকদের ১১ গ্রেড দেওয়া হবে আপনারা ক্লাসে ফিরে জান। সারাদেশের প্রাথমিকের শিক্ষকরা সেই আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে শ্রেণী কক্ষে ফিরে আসি। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য তা আজও কার্যকর হয় নাই। তাই আমরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আবারও কর্মবিরতি পালন করতেছি। আগামী ১ ডিসেম্বর কমল শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা তাই সরকার দ্রুত সময়ে আমাদের ন্যায্য দাবী মেনে নিবে বলে আমরা আশাবাদী।
সহকারী শিক্ষক নার্গিস পারভীন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় হচ্ছে শিক্ষার ভিত্তি স্তর। যদি একটি ভবনের ভিত্তি মজবুত না তাহলে ভবনটি টেকসই হতে পারে না। তেমনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঠিক মূল্যায়ন করতে না পারলে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি। তাই আমি বর্তমান সরকারের নিকট আকুল আবেদন করতেছি দ্রুত সময়ে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বের সিদ্ধান্তটি প্রজ্ঞাপন জারি হোক। তাহলে শিক্ষকরা শ্রেণী কক্ষে ফিরে যাবে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করা হবে। অন্যথায় কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত হলে আমরা বার্ষিক পরীক্ষা নাও গ্রহণ করতে পারি। আজ আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলাম কিন্তু কর্ম বিরতি পালন করা হয়েছে।
হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নওশাদ আলী বলেন, সারা দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মরত শিক্ষকদের ৩ দফা দাবিতে (দশম গ্রেড প্রদান, শতভাগ পদন্নোতি ও ১০-১৬ বছরে টাইমস্কেল) আন্দোলন চলছিলো। সম্প্রতি সময়ে আলোচনা সাপেক্ষে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সহকারী শিক্ষকদের ১১ গ্রেড দেওয়া হবে মর্মে প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়। যা দ্রুত সময়ে কার্যকরী করা হবে মর্মে আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর না হওয়ায় প্রাথমিকের শিক্ষকা আবারও কর্ম বিরতি পালন করছেন। বর্তমান সরকারের নিকট আমার আকুল আবেদন দ্রুত সময়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করে কমলমতি শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করতে শিক্ষকদের শ্রেণী ফেরার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষকদের দাবি পুরন না হওয়ায় তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে ও কর্ম বিরতি পালন করছেন। এতে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চরম ক্ষতি হচ্ছে। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা এসময় শিক্ষকরা কর্ম বিরতি পালন করায় আমরা হতাশ। তাই সরকারের নিকট বিশেষ অনুরোধ শিক্ষকদের সমস্যা সমাধান করে তাদের শ্রেণী কক্ষে ফেরার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন
সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের ৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্য কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাকিমপুর উপজেলার ৪৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও দ্বিতীয় আবারের মতো কর্ম বিরতি সফল ভাবে পালন করা হয়েছে।
© All rights reserved © 2023
Leave a Reply