ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি।
সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহ তিন জন কে পদত্যাগ ও এক জনকে চাপের মুখে ফেলে দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করতে বাধ্য করা হয়।২৫ শে আগস্ট ২০২৪ রোজ রবিবার সকাল ১১. ঘটিকার সময় ধর্মপাশা উপজেলার গাছতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতা আন্দোলনের সাথে জড়িত কয়েকজন শিক্ষার্থীদের ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে জানাযায়, রবিবার (২৫শে আগস্ট) সকাল ১০ টার দিকে উপজেলার গাছতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কয়েকজন সহ প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ওই বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মাঠে বের করে আনা হয়।পরে প্রধান শিক্ষিকা ও সহকারী শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবিতে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি গাছতলা বাজার সড়কে অবস্থান করেন। পরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ও সাবেক শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে আলোচনায় বসেন।এক ঘন্টা আলোচনায় সকলের মতামতের ভিত্তিতে, প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা বালা তালুকদার, ও সহকারী প্রধান শিক্ষক দীন ইসলামের পদত্যাগের বিষয় টি সিদ্ধান্ত হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, কয়েকজন অভিভাবক বলেন,গাছতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের আচরণ ভালো নয়।তারা বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসেন না।এ দুজন সাবেক সাংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের প্রভাব খাটিয়ে আসছিলেন।
এ বিষয়ে সদ্য পদত্যাগ প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা বালা তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১০/১৫ জন যারা বিদ্যালয়ে এসে ছিল, তাঁদের মধ্যে। পাঁচ জন সাবেক শিক্ষার্থী ও বাকিরা অচেনা ব্যাক্তি।তারা আমার ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পদত্যাগ করার জন্য মিছিল দিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। আমরা নিরুপায় হয়ে, চাপের মুখে পড়ে পদত্যাগ পত্র জমা দিতে হয়েছে। আমাদের উপর আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিদ্যালয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়, তা ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তেই হয়।
অপর দিকে মধ্যনগর উপজেলার, মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শরীফ উদ্দিনের সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিতাস মাহমুদের মধ্যে নতুন ভবনে মালামাল তুলা নিয়ে তর্ক বিতর্ক হয়।রবিবার সকাল ১০.৩০ মিনিটে ছাত্র ছাত্রীরা উপস্থিত হয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধের অবসান চেয়ে তারা পাঠদান বর্জন করে।বেলা ১১টার দিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বহিরাগত সহ ১০/১৫ জন বিদ্যালয়টি শিক্ষক মিলনায়তনে ঢুকে সকল সহকারী শিক্ষকদের মোবাইল নিয়ে প্রধান শিক্ষকের হাতে জমা দেন। পরে তারা সকল শিক্ষদের কাছ থেকে দ্বন্দ্বের বিষয় টি জেনে নেন।এক পর্যায়ে ছাত্র ও শিক্ষকদের তুলে ধরা বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষক শরীফ উদ্দিন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে ও ঐ বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষক শামীম আহমেদ , শরীফ উদ্দিনকে নানান কাজে তাকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করায় সহকারী শিক্ষক শামীম আহমেদ কে দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য প্রধান শিক্ষককে বলা হয়।এ সময় প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম সহ সকল শিক্ষক গন , ঐ দুইজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন না করার জন্য অনুরোধ করেন।এক পর্যায়ে শরীফ উদ্দিন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং সহকারী শিক্ষক শামীম আহমেদ কে দুই মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করেন প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম।
এ বিষয়ে সদ্য পদত্যাগ হওয়া শরীফ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে যারা এসেছিল হাতে গনায় কয়েক জন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এবং কয়েকজন অটোরিকশা চালকও ছিলো। তিনি আরো বলেন, আমাকে মারধোর করার ভয় দেখানো হয়।আমি ভয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হই।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ শিক্ষার্থী, ফজলে রাব্বি বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেই সহকারী শিক্ষক শরীফ উদ্দিন পদত্যাগ করেছেন।আমরা তাকে কোন প্রকার ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করি নাই।
মধ্যনগর পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম বলেন,সহকারী শিক্ষক শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ছাত্র ছাত্রী ও শিক্ষকদের নানা অভিযোগ ছিল, তবে সহকারী শিক্ষক শামীম আহমেদ বিরুদ্ধে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কোন ক্ষোভ নেই।কিন্তু সহকারী শিক্ষক শামীম আহমেদ , সহকারী শিক্ষক শরীফ উদ্দিনের বন্ধু হওয়ায় এবং তাকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করার কারণে, সহকারী শিক্ষক শামীম আহমেদ কে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়।।
মধ্যনগর উপজেলার ইউএনও অতীশ দর্শী চাকমা বলেন, বিদ্যালয়ের ঘটনাটি তিনি শুনেছেন।তিনি উপজেলার বাহিরে আছেন।
ধর্সপাশা উপজেলার ইউএনও মো গিয়াসউদ্দিন বলেন।গাছতলা বিদ্যালয়ের পদত্যাগ পত্র পেয়েছি। তবে উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমির সুপারভাইজার কে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য বলেছি।