প্রতিবেদনে মোসতাহিদ আল আদনান
সদ্য সমাপ্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতার নতুন সূর্য। পেয়েছি নতুন এক বাংলাদেশ। চরম দুঃখ -দূর্দশা ও হতাশার এক রক্তাক্ত পথ মাড়িয়ে ছাত্র জনতার হাত ধরে এ বিজয় এসেছে।ছাত্র জনতার এই দূর্বার আন্দোলনে যোগ দিয়েছে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে এদেশের আলেম সমাজ, কৃষক, শ্রমিক ও সকল পেশার মানুষ। বিগত প্রায় দেড়যুগের কাছাকাছি সময় ধরে চলা জুলুম নির্যাতনের গলা চেপে ধরেছে এদের বিপ্লবী ছাত্র সমাজ।
এদেশে ছাত্ররাই একের পর এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ এদেশের প্রত্যেকটি যুক্তিক আন্দোলনে ছাত্রদের ভুমিকা অবিস্মরণীয়। সর্বশেষ ২৪ এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্ররা যা দেখিয়েছে তা ইতিহাসে বিরল।
এদেশের ছাত্র জনতা অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করেনি,আর করবেও না। এটা তো সূর্যের আলোর ন্যায় পরিষ্কার।
দীর্ঘ সময় স্বৈরশাসনের ফলে এই সমাজের মফস্বল থেকে নগর-বন্দর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় পচনধরেছে।আর এই অবস্থা থেকে উত্তরোণের জন্য বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের সাথে ছাত্র জনতাকেও এগিয়ে আসতে হবে।মনে রাখতে হবে দীর্ঘ ত্যাগ, তিতিক্ষা, রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও উন্মুক্ত বুলেটের সম্মুখ থেকে এ স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি।সুতরাং এস্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। তাই প্রতিটি অঙ্গন থেকে নতুন এই দেশকে নতুন ভাবে সাজানোর কাজে লেগে পড়ুন।
আগামীর বাংলাদেশ হবে জুলুম- নির্যাতন, অন্যায় - অনাচার, গুম,খুন, রাহাজানি মুক্ত এক স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু স্বৈরশাসক ও তার দোসররা থেমে নেই। নানা ষড়যন্ত্রের জাল আঁকতে শুরু করেছে।তবে তারা কখনই সফল হবে না ইনশাআল্লাহ।
বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ইতিমধ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু করেছে।ট্রাফিকহীন রাস্তায় কলেজ, ভার্সিটির ছাত্রদের পাশাপাশি মাদরাসার ছাত্ররাও যোগ দিয়েছে ট্রাফিকের কাজে।দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে ছাত্র জনতা।সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলা করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে একদল দুষ্কৃতিকারী।কিন্তু আলেমসমাজ ও বিপ্লবী ছাত্র জনতা যেভাবে তাদের নিরাপত্তার জন্য রাত জেগে মন্দির পাহারা দিচ্ছে,তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যা অন্য কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।
হ্যা এটাই উপযুক্ত সময় রাষ্ট্রকে নতুন করে সাজানোর। আমাদেরকে সাজাতেই হবে এই দেশকে। এটা যে আমাদের মাতৃভূমি। আমরা আগামী ফাল্গুনে দিগুণ হওয়ার কথা ছিল ;কিন্তু বর্ষাতেই একশতগুণ হয়ে গেছি।
আমাকে তো গড়তেই হবে।সাজাতেই হবে।আমার এই দেশ আমিই সাজাবো...