সাজ্জাদ চিঠি পড়েছিলো কিনা জানা গেলো না। তবে শাওলীর নামে চিঠি আসলো, ডিভোর্সের নোটিশ।
শাওলীর বাবা কফিলউদ্দিন, সরকারি কলেজের 'সারকার ও রাজনীতি' বিষয়ের অধ্যাপক, ডিভোর্সের কথা শুনে হম্বিতম্বি করে বাড়ি মাথায় তুললেন।
মনোয়ারা বেগম শাওলীকে ডেকে নিয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলেন।
তোমার বাবা আর আমি কেনো আলাদা ঘরে থাকি অনেকবার জানতে চেয়েছো, কোনোদিন বলিনি। আজ বলা দরকার। তুমি তখন ষোল মাসের। তোমাকে নিয়ে তোমার নানাবাড়ি গিয়েছিলাম তিনদিনের জন্য। গিয়ে দেখি তোমার নানা, নানু, মামা সবাই কক্সবাজার যাবে বলে রওনা হচ্ছে। আমি ফাঁকা বাড়িতে একা না থেকে ফিরে এলাম। ফিরে এসে দেখি আমাদের ছুটা বুয়া বিলকিস আর আর তোমার বাবা ঘরের ভেতরে।
ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ।
আমি একটা চাকরি করি, সরকারি চাকরি। চাইলে তোমাকে নিয়ে আলাদা হয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু সমাজে কি অবস্থান হতো।
ঘরে যাইহোক না কেনো বাইরে তো কেউ অসম্মান করতে পারে না। তুমি যত প্রতিষ্ঠিতই হও, ডিভোর্স হলে সম্মান নিয়ে বাচা যায় না।
এখনো সময় আছে, দ্রুত ফিরে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে বলো চাকরির দরকার নেই। তোমার ভালোর জন্য বলছি।
শাওলী কেবল চেয়েচেয়ে দেখলো।
দীর্ঘ শ্বাস ফেলে মায়ের চোখে চোখ রেখে শুধু একবার বললো, মা, আমি তোমাদের একমাত্র মেয়ে যা বলছো ভেবে বলছোতো?