শেখ সাদী সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
কাউতলী কাঁচাবাজারে মুরগি চুরির অভিযোগে এক মিথ্যা মামলে তোলপাড় চলছে, গত ৪ ডিসেম্বর কাউতলী কাঁচা বাজারের মুরগীর ব্যাবসায়ী কাউতুলী এলকার সামা মিয়ার ছেলে মো: বশির মিয়া নামের এক ব্যক্তি পাঁচ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি চুরির মামলা দায়ের করেন, এই মামলায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, এই ঘটনায় অস্থিরতা বিরাজ করছে কালতুলি বাজারে, খোঁজ নিয়ে জানা যায় সময়ের প্রয়োজনে ও জনগণের চাহিদার প্রেক্ষিতে কাউতলিক ব্রিজের পাশে সড়ক ও জনপদের জায়গার উপর গড়ে উঠেছে বাজারটি, পরে নতুন ব্রিজ হলে সংকুচিত হয়ে পরে বাজার, এই অবস্থায় ব্যক্তি মালিকানায় জায়গা ভরাট করে বাজারের আয়তন বাড়ানো হয়।বর্তমানে খুচরার পাশাপাশি পাইকারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতি কাউতলী বাজারের নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জেটি স্থাপন করলে বাজারের ভিতরের দিয়ে রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজন পড়ে। এমত অবস্থায় বাজারের সরকারি জায়গায় বানানো অস্থায়ী দোকান ঘরগুলো ছোট করে তা ব্যবসায়ীদের বরাদ্দ দেওয়া হয়।সেখানে বসির মিয়াও আনসার আলী কে একটি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়।তারা একটি অর্ধেক করে ব্যবসা শুরু করেন এ অবস্থায় বসির তার ছোট ভাই মোস্তাককে ব্যবসায় যুক্ত করেন। এক পর্যায়ে মোস্তাক তাদের অর্ধেক অংশের দোকানে আনসার আলীর কাছে 20000 টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। টাকা নিলেও দোকান বুঝিয়ে দেয়নি বশির মিয়া ও তার ভাই দোকান তলা বদ্ধ করে রাখায় আনসার আলীর দোকানে আর ব্যবসা করতে পারেনি। ফলে আনসার আলী কাউতলী বাজার খোলা আকাশের নিচে হকারী শুরু করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সালিসকারক সাহেব সর্দারদের জানানো হয় , কালতলী এলাকার পঞ্চায়েত সাহেব সর্দাররা এ বিষয়ে বশির মিয়া ও তার পরিবারের কাছে বরাবরই যোগাযোগ করে কোন কুল কিনারা করতে পারেনি, সবশেষ তারা কেনা অংশ বাদে আনসার আলির নিজের অংশ ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলেও বশির তা ছেড়ে দেয়নি। এ অবস্থায় স্থানীয় সাহেব সরদার ও বাজারে সংশ্লিষ্ট আনসার আলীর দোকান বুঝিয়ে দিতে গত ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ৬ টার দিকে ওই দোকানে যায়। বশির মিয়াকে একাধিকবার কল দিল তিনি সেখানে যাননি উপস্থিত লোকজন বাজার কমিটির লোক সহ দোকানের বাইরে থাকা লোহার খাঁচা সরিয়ে রেখে আনসার আলীকে দোকানের অর্ধেক বুঝিয়ে দেয়। পরে লোকজন চলে গেলে সাতটার দিকে বশির মিয়া বাজারে গিয়ে জরুরি সহায়তা নাম্বারে ৯৯৯এ ফোন দেয়। সদর থানার উপ পরিদর্শক এসআই মুহাম্মদ মাজেদুল ঘটনাস্থলে যায়। সেদিন রাতে আনসার আলী তার ছেলে নুরুল আমিন স ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা সাহেব সরদারদের বিরুদ্ধে চুরি ও ভাংচুর মামলা দায়ের করে কাউতুলী এলাকার শামা মিয়ার ছেলে মো: বশির মিয়া, এতে বশির মিয়া তার দোকানে থাকা সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা ১০০ মুরগি চুরি হয়েছে এগুলো অভিযোগ করে।কিন্তু সেই সময় বাজারে থাকা পার্শ্ববর্তী দোকানের সিসিটিভি ফুটেছে কোন মালামাল চুরি করতে দেয়া যায়নি।তাহলে কেন এত দ্রুত কেন তদন্ত না করে মামলা এফআইআর করল পুলিশ?
কেনইবা পরদিন বাজার থেকে বৃদ্ধ আনসার আলীকে গ্রেপ্তার করা হলো এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরী। এ বিষয়ে কাউতলী কাঁচা বাজারের কমিটির সেক্রেটারি লিটন মিয়া জানান এ ঘটনা বাজারে উত্তেজনা বিরাজ করছে একটা মামলা হয়ে গেল আমরা কিছুই জানিনা মামলাটা ভালোভাবে তদন্ত করে নেয়া উচিত ছিল পুলিশের পুলিশ আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করে নাই, বাজার কমিটির সভাপতি আনিস মিয়া বলেন, এ ঘটনার পরে কমিটির সবাই থানায় গিয়ে ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেন তিনি বলেন মামলা হয়ে গেছে এখন আর কিছু করার নেই আপনারা আরো একটা মামলা করে দেন এদের বিরুদ্ধে, স্থানীয় ব্যবসায়ী দুই বার হজ্ব করে আসছেন কাউতলীর যুবনেতা সমাজসেবী শাহাজাহান বলেন সেদিন বাজারের সভাপতির সাধারণ সম্পাদক এলাকার পঞ্চায়েত কমিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বাজারে ব্যবসায়ীদের অনুরোধে আমি বাজারে এসে সবার উপস্থিতিতে আনসার আলীর বৈধ দোকানের জোরপূর্বক বশিরের দখলকৃত অংশ অবৈধভাবে রাখার মুরগির খাঁচা সরানো হয়। পরে শুনতে পেলাম জোরপূর্বক দখল কারি বশির মামলা দায়ের করেছে এই মিথ্যা মামলায় বানোয়াট উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আমাকে আসামি করা হয়েছে। আমি এই মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন মামলার সঠিক তদন্ত দোষীদের বিচারে দাবি জানাচ্ছি। এ বিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মাজেদুল ইসলাম এর কাছে জানাতে ২ নং পুলিশফাড়িতে গেলে ইনচার্জ হ হুমায়ুন কবিরের নির্দেশে তিনি বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। ফাঁড়ির ইনচার্জ হুমায়ুন কবির নিজেও বক্তব্য দিননি।