বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ জহির খান
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে চোরাচালানের মাধ্যমে আনা ৭০২ বস্তা প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একজনকে গ্রেপ্তার এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি ও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হালিমের নেতৃত্বে উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে ঢাকামুখী লেনে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় এসআই (নিরস্ত্র) আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ একটি কার্গো ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে তল্লাশি করেন। এ সময় গাড়িতে থাকা মোঃ সিদ্দিক হোসেন (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, এ সময় গাড়ি থেকে পাঁচ থেকে ছয়জন ব্যক্তি নেমে দৌড়ে পালিয়ে যান।
তল্লাশিকালে কাভার্ড ভ্যান থেকে ৭০২ বস্তা প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি বস্তার ওজন ২৫ কেজি হিসাবে উদ্ধার করা কাঁচামালের মোট ওজন দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫০ কেজি, অর্থাৎ ১৭.৫৫ মেট্রিক টন। এসব কাঁচামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত নীল-হলুদ রঙের একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয়, যার নিবন্ধন নম্বর যশোর-টিএ-১১-৪৬১১।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তি উদ্ধার করা কাঁচামালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি শুল্ক ও অন্যান্য বৈধ কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে চীন থেকে এসব কাঁচামাল বাংলাদেশে আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্দিক হোসেনের পাশাপাশি পলাতক আসামি আনিস রহমান সুলতান (৩০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে জোরারগঞ্জ থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি ও ২৫ডি ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ১৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নথিভুক্ত হয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সিআর মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
অন্যদিকে, জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ জহির হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে সিআর মামলা নং ১২৭/১৭-এর সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন। বুধবার রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাজ্জাদ হোসেন বারইয়ারহাটের টাকিয়া মার্কেটের মেসার্স মিথিলা এন্টারপ্রাইজের মালিক বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ছয়জন গ্রেপ্তার
পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অপরাধ প্রতিরোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার রাত ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের একটি চলমান পেট্রোল পাম্পের সামনে সন্দেহজনক অবস্থায় ঘোরাফেরা করার সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন মোঃ রানা (২৬), মোঃ হৃদয় (২৪), মোঃ আরিফ (২৩), মোঃ মনির (২৪) ও মোঃ সোহেল (২৫)। তাঁদের সবার বাড়ি জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় ও মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকায়।
এ ছাড়া একই দিন রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে জোরারগঞ্জ থানাধীন কয়লা রাস্তার মাথা এলাকা থেকে মোঃ মোশারফ হোসেন (৪০) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, অপরাধ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।