মোহাম্মদ করিম লামা- আলীকদম প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা পৌরসভার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘নদীর ঘাট’ এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করিয়াছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি), লামা উপজেলা শাখা। শনিবার (১০ অক্টোবর) স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে পর্যটনকেন্দ্রটিতে জমিয়া থাকা প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লামার অন্যতম আকর্ষণীয় এ পর্যটনকেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরিয়া প্লাস্টিক, পলিথিন ও নানাবিধ বর্জ্যে দূষিত হইয়া পড়িয়াছিল। ফলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হইতেছিল, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি হইতেছিল। এমন পরিস্থিতিতে পর্যটনকেন্দ্রটির সৌন্দর্য ফিরাইয়া আনা এবং পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে ছাত্র পরিষদের তরুণ কর্মীরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
অভিযান চলাকালে সংগঠনের সদস্যরা পর্যটনকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থানে ছড়াইয়া-ছিটাইয়া থাকা বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করেন। পাশাপাশি আগত পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালান। নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং নদী ও আশপাশের পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখিতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তাঁহারা।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ, লামা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “লামার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ নদীর ঘাট দীর্ঘদিন ধরিয়া প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যে দূষিত হইয়া পড়িয়াছিল। ইহাতে পর্যটনকেন্দ্রটির সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি সৃষ্টি হইতেছিল। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় লামার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং পর্যটনকেন্দ্রটিকে পরিচ্ছন্ন রাখিবার লক্ষ্যে আমরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করিয়াছি।”
তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সুন্দর লামা, ইহাই আমাদের অঙ্গীকার।” নদীর ঘাটসহ উপজেলার সকল পর্যটনকেন্দ্র পরিচ্ছন্ন রাখিতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান হইতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় কেবল পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করিলেই চলিবে না; পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করাও জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নদীর ঘাটকে পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব রাখিয়া লামার পর্যটনশিল্পের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।