মোঃ আশরাফুল আলম ,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পুকুরে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক পরিবারের উপর হামলা, বিবাদীর মারধরে গুরুতর আহত ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূ মোছাঃ মরিয়ম আক্তার (২২) বাদী হয়ে ১৭ জনকে বিবাদী করে ফুলবাড়ী থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।এজাহার সূত্রে জানা যায়, দামারপাড়া (খড়খুই) মৌজায় ৩৩ শতক ১টি পুকুরের মালিক বাদীর স্বামী মোঃ লিমন হোসেন (৩০)। পুকুরটি আগে ৩নং বিবাদী লিজ নিয়ে মাছ চাষ করতো। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাদীর স্বামী নিজে মাছ চাষ শুরু করলে বিবাদীগণ জোরপূর্বক ওই পুকুর দখলের চেষ্টা করে এবং বাদীর পরিবারের নামে এলাকায় বিভিন্ন বদনাম রটায়।এরই জেরে গত ০৩/১০/২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭.৩০টায় ফুলবাড়ী থানার ৪নং বেতদিঘী ইউনিয়নের খড়খুই (ভায়রা) গ্রামে ৩নং বিবাদী বাদীর শ্বশুর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে অকথ্য গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। ওই দিন রাত ১০টায় মীমাংসার কথা বলে গ্রামের মোঃ তফজিম বাড়ির বাইরে ডাকলে বাদী ও তার স্বামী সরল মনে সেখানে যায়।
অভিযোগে বলা হয়, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিবাদীগণ হাসুয়া, ছোরা সহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। এসময় বাদীর স্বামী লিমন হোসেনের কপালে ও মাথায় বজোড়ে কোপ দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। বাধা দিতে গেলে বাদীর শ্বশুর মোঃ নিরাজ উদ্দিন (৫৫) কে হকস্টিক দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়।এছাড়াও এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় ৫ জন বিবাদী বাদীর পরনের কাপড় টানা হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করে এবং তার ১ আনা ওজনের নাকফুল ও ৮ আনা ওজনের কানের দুল যার মূল্য ১,২০,০০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের চিৎকারে লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে স্বামীর মাথা ও কপালে ৮টি এবং শ্বশুরের মাথায় ৫টি সেলাই দেওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, এজাহার পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।