আব্দুর রউফ ভূঁইয়া: জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
ভোজ্যতেল ক্রয়-বিক্রয়ে অনিরাপদ ড্রাম ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বাতিল এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কিশোরগঞ্জে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের ভূমিকা নিয়ে অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ক্যাবের সভাপতি ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান।
খোলা ভোজ্যতেল বিক্রয় বন্ধের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের বাজার মনিটরিং-এ ভূমিকা সংক্রান্ত উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ'র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুশতাক হাসান মুহঃ ইফতিখার।
বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সোহেল রেজা চৌধুরী।
উপস্থিত ছিলেন, জেলা ক্যাবের উপদেষ্টা অ্যাড. মায়া ভৌমিক, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মোল্লা দুলু কিশোরগঞ্জ পৌরসভা কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম উবায়দুল হক প্রমূখ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ ক্যাব সভাপতি আলম সারোয়ার টিটু।
আলোচনায় বক্তারা ভোজ্যতেল সংরক্ষণ ও ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অনিরাপদ ড্রাম ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ পাত্র ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, গণমাধ্যম, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, ভোজ্যতেল মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই তেল সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে নিরাপদ পাত্র ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। অনিরাপদ পাত্র ব্যবহারের কারণে ভোজ্যতেলের গুণগত মান ও জনস্বাস্থ্যে সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অনিরাপদ ড্রাম ব্যবহার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় নিরাপদ ভোজ্যতেল সরবরাহ, ভোক্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অনিরাপদ ড্রাম ব্যবহারের পরিবর্তে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পাত্র ব্যবহারে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।