মোঃ মেহেদী হাসান বিশ্বাস। পাংশা,রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর পাংশায় চাঁদা দাবি ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সিঙ্গাপুরফেরত এক প্রবাসীর মাছের খামারে বিষ প্রয়োগ, ভাঙচুর এবং পুকুরপাড়ের প্রায় ৫০ কাঁদি কলাগাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় পাংশা ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার যশাই ইউনিয়নের নিভাকেষ্টপুর গ্রামে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী আসাদ মন্ডলের মাছের খামারে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিষ প্রয়োগের পর পুকুরের প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মূল্যের মাছ মরে পানিতে ভেসে ওঠে।
আসাদ মন্ডল বলেন, প্রায় ১৬-১৭ বছর সিঙ্গাপুরে কাজ করে উপার্জন করা অর্থ দিয়ে তিনি এলাকায় মাছের খামার গড়ে তোলেন। সম্প্রতি যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও সাধারণ সম্পাদক কালাম মন্ডল তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও দাবি তার।
আসাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকালে কয়েকজন বহিরাগতকে সাথে নিয়ে তার মাছের খামারে ঢুকে সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পুকুরপাড়ের প্রায় ৫০ কাঁদি কলা কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানালে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে হামলাকারীরা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরপর রাতের কোনো একসময় পুকুরে বিষ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আসাদের চাচাতো ভাই রফিক মন্ডল বলেন, আব্দুল মান্নান প্রামাণিক ও কালাম মন্ডল লোকজন নিয়ে অস্ত্রসহ পুকুরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। পরে বাড়িতে গিয়েও হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন সকালে পুকুরে অসংখ্য মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়।
আসাদের বাবা মোহাম্মদ আলী মন্ডলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কালাম মন্ডল তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। তার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মঙ্গলবারও চাঁদা দাবি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় মাছ মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
পাংশা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার ঘোষ বলেন, মাছের পুকুরের চারপাশের তারকাঁটার বেড়া ও প্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই রাতে পুকুরের মাছও নিধন করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পায়।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ ও প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালাম মন্ডলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি আইনগত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।