নিজেস্ব প্রতিনিধি
সাভারের আশুলিয়ায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করে মাদ্রাসার এডহক কমিটি অনুমোদনের আবেদন করার অভিযোগে তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর মোহাঃ নিয়ামতুল্লাহ ও কথিত উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটির একটি তালিকা অনুমোদনের জন্য মাদ্রাসার প্যাডে আবেদন তৈরি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই আবেদনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করে তা প্রকৃত দলিল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পরে জাল স্বাক্ষরযুক্ত আবেদন ও কমিটির তালিকা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, বছিলা, ঢাকায় জমা দেওয়া হয়।
পুলিশের এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নজরে এলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে এসআই (নিরস্ত্র) মেরাজুল ইসলাম সোহাগ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর মোহাঃ নিয়ামতুল্লাহ ও উপপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে পরিচয় দেওয়া সৈয়দ সানজিদকে হেফাজতে নেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে তারা এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে যেকোনো সময়ে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে মাদ্রাসা কমিটি অনুমোদনের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, জাল স্বাক্ষরযুক্ত এডহক কমিটির আবেদনটিকে আসল দলিল হিসেবে ব্যবহার করে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর মোহাঃ নিয়ামতুল্লাহ ও সৈয়দ সানজিদ ছাড়াও সৈয়দ আলী রায়হান ওরফে রুন্নান, গাজী লিটন, বিপ্লবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল, জাল দলিল তৈরি এবং প্রতারণামূলকভাবে তা আসল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারায় নিয়মিত মামলা রুজুর আবেদন করা হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও মামলার বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।