মোঃ সবুজ সরদার, লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি
নড়াইলের নড়াগাতি থানায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ওপর হামলা ও আঘাতের ঘটনা ঘটিয়ে হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এসকেন শেখকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে তার ভাই নয়ন শেখকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার এসকেন শেখ নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার খাশিয়াল ইউনিয়নের পুটিমারী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদক ব্যবসার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের জন্য নড়াগাতি থানা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসআরবি-০৬, সিপিসি-০৩ যশোর ক্যাম্পের মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্সের নেতৃত্বে এবং ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের সহযোগিতায় আসামি এসকেন শেখকে গ্রেপ্তারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর আগে নড়াগাতি থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসার সময় পুলিশের ওপর হামলা ও আঘাতের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে এসকেন শেখ হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
পরে ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হলেও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তারে নড়াগাতি থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও অনুসন্ধান চালাতে থাকেন। একই সঙ্গে তার অবস্থান শনাক্তে তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়।
একপর্যায়ে এসআরবি-০৬-এর তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় এসকেন শেখের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে ৫ অক্টোবর ২০২৬ রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এসকেন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় তার ভাই নয়ন শেখকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযান শেষে গ্রেপ্তার দুজনকে নড়াগাতি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মামলায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের ওপর হামলার পর হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যাওয়া একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অন্য জেলার এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসামির বিরুদ্ধে চলমান মামলার আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।