বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ জহির খান
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সক্রিয় সদস্যকে দেশীয় অস্ত্র ও মুখোশসহ গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও সাতটি কালো রঙের মুখোশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার ১ নম্বর করেরহাট ইউনিয়নের ঘেড়ামারা এলাকার নয়াটিলা মাজারের প্রায় ১০০ গজ পূর্বে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের উত্তর পাশের জঙ্গল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি নয়াটিলা থেকে কয়লা বাজারের মধ্যবর্তী এলাকায় ডাকাতির উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ধ্যার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এসআই (নিঃ) মো. আকরামুল হকের নেতৃত্বে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ডাকাতি প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করছিল।
এ সময় পুলিশ সদস্যরা জঙ্গলের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র হাতে এবং মুখোশ পরিহিত অবস্থায় ১৪-১৫ জনের একটি দলকে দেখতে পান। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মুখোশ পরিহিত তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর ১০-১২ জন সদস্য অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ভূজপুর থানার বাগান বাজার ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকার মো. আনোয়ার হোসেন (২৩), ফেনী সদর উপজেলার ফাজিলপুর ইউনিয়নের রাজনগর এলাকার বেলায়েত হোসেন (৩০) এবং জোরারগঞ্জ থানার করেরহাট ইউনিয়নের ঘেড়ামারা এলাকার মো. আলাউদ্দিন ওরফে মামুন (৩৬)।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি ২৪ ইঞ্চি লম্বা লোহার ছোরা, একটি ২১ ইঞ্চি লম্বা ছোরা, একটি ২৭ ইঞ্চি লম্বা ছোরা, সাড়ে ২৪ ইঞ্চি লম্বা একটি রামদা, সাড়ে ৩০ ইঞ্চি লম্বা একটি লোহার ছোরা এবং সাতটি কালো রঙের মুখোশ উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়ি থামিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে সমবেত হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তে তাদের আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তথ্য পাওয়া গেছে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক ডাকাতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার মো. আলাউদ্দিন ওরফে মামুনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া অপর গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধেও পূর্বের বিভিন্ন মামলার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।