মনির খান নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।
নড়াইলের লোহাগড়ায়,দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী পর লোহাগড়া লক্ষীপাশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিজস্ব ২৪.১২ শতক জমি উদ্ধার করে বিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন শিকদার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শিক্ষার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সংরক্ষণ ও সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ উদ্যোগ নেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৯০ নম্বর লক্ষীপাশা মৌজার ১৫৩৪ নম্বর দাগের ২৪.১২ শতক জমি বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি বিদ্যালয়ের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন শিকদারের উদ্যোগে জমিটির মালিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত করে তা উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
উদ্ধার করা জমিতে বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তির পরিচয় ও জমির বিস্তারিত তথ্যসংবলিত একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সাইনবোর্ডে জমির পরিমাণ, দাগ নম্বর ও মৌজার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। এর মাধ্যমে জমিটি বিদ্যালয়ের সম্পত্তি হিসেবে দৃশ্যমানভাবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অবৈধ দখল বা ব্যবহারের সম্ভাবনা রোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন শিকদার বলেন, “বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা জমিটি উদ্ধার করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে পেরে আমরা সন্তুষ্ট। ভবিষ্যতেও বিদ্যালয়ের সকল সম্পদ রক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি উদ্ধার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন শিকদারের উদ্যোগে বিদ্যালয়ের জমিটি উদ্ধার করে সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় তাঁর এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।”
এদিকে দীর্ঘদিন পর বিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি উদ্ধার ও সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপনের ঘটনায় শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা সভাপতির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, লোহাগড়া লক্ষীপাশা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি সংরক্ষণে নতুন সভাপতির উদ্যোগকে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।