তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
একদিকে পরীক্ষার হলে বসেছেন মাত্র একজন পরীক্ষার্থী, অন্যদিকে তাঁকে ঘিরে দায়িত্ব পালন করছেন ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দুটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার এমনই ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা গেছে।
এদিন ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার দুটি কেন্দ্র মিলিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র দুজন পরীক্ষার্থী। তবে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ রেখে পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়।
তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ৭০৫ জন। কিন্তু ওই বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন কেবল হাজী মোমতাজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নীলগঞ্জের শিক্ষার্থী রাকিব মিয়া। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ এলাকায়।
এ কেন্দ্রে হল সুপার, দুইজন সহকারী হল সুপার, দুইজন কক্ষ পরিদর্শক, পাঁচজন সহায়ক কর্মচারী, তিনজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা এবং ট্যাগ কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জন দায়িত্ব পালন করেন।
একই চিত্র দেখা যায় তাড়াইল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানে পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র একজন পরীক্ষার্থী, প্রিয় রঞ্জন বর্মন। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার দামসুর এলাকায়। ওই কেন্দ্রেও একজন পরীক্ষার্থীর জন্য ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র দুটি পরিদর্শন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিসান আলী। তিনি কেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিবেশ ও পরীক্ষা পরিচালনার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হলেও শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী কেন্দ্র পরিচালনার জন্য নির্ধারিত জনবল রাখতে হয়। তাই প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েই সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।