মনির খান নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।
ভারতে পাচার হওয়া ৫ জন নারী ২জন শিশু সহ মোট দশজনকে দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বেঙ্গালুর ভারত থেকে এই ১০ জন শিশু নারী পুরুষকে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট ও খুলনায় পাঠানে হয়েছে। স্বদেশে ফেরত আনার বিষয়ে পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান কবি সৈয়দ খায়রুল আলম, নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশের এই বন্দী নাগরিকদের ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। যারা পরিবারের কাছে ফিরে এলেন তারা হলেন বাগেরহাট জেলা ও খুলনা জেলার রূপসা থানার সোবহান আলীর মেয়ে হালিমা খাতুন, খুলনার ছরোয়ার মল্লিক এর ছেলে মোঃ রাজু মল্লিক, মোঃ মোহর আলী শেখ এর ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম, কালাম মাতুব্বর এর ছেলে মোঃ মাহাবুর মাতুব্বর, রাজু মল্লিক এর ছেলে তামিম মল্লিক ও ইব্রাহিম মল্লিক। এরা সবাই বাগেরহাট ও খুলনা জেলার রূপসা থানার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা। এদেরকে বিভিন্ন এলাকা থেকে সুনামগঞ্জ অঞ্চলের দুর্গম এলাকা দিয়ে আসাম হয়ে বেঙ্গালুরে (ভারতে) বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয় বলে জানান উদ্ধারকারীরা। সকাল নয়টায় ইন্ডিয়াগো ফ্লাইটে বেঙ্গালুর থেকে চেন্নাই এবং চেন্নাই থেকে বিকালে বাংলাদেশের পথে রওনা হয়ে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত সাতটায় অবতরণ করে।
এরা ভারতে পাচার হয়ে বেঙ্গালুরে লেবারের কাজ করতো বলে জানায়। সেখান থেকে ভারতীয় পুলিশের তাদের আটক করে দীর্ঘদিন জেলখানা ও শেল্টার হোমে বন্দি ছিল। বাংলাদেশ ও ভারতের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদেরকে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে পাচারের শিকার মানব উদ্ধার শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম এ বিষয়ে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ বিষয়ে সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম জানান অসাম্প্রদায়িক চেতনা বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ করে এই মানবিক কাজটি উৎসর্গ করে আমি আনন্দিত। খায়রুল আলম আরো জানান নিউ আর্ক মিশন অপ ইন্ডিয়া হোমের প্রতিষ্ঠাতা অটো রাজা এবং ম্যানেজার শ্রীবাস কুমার এ বিষয়ে আমার সাথে সর্বদা যোগাযোগ করে ভিকটিমদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সহযোগিতা করে বিমানের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।
অটো রাজার প্রতিও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংস্থার চেয়ারম্যান বলেন অতি শীঘ্রই আরো যেসকল নারী শিশু ভারতের যেসকল প্রতিষ্ঠান বা শেল্টার হোমে আছে তাদেরকেও দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে চেষ্টা করছি,দ্রুতই তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। । উদ্ধারকারীদের স্থানীয় প্রশাসন পুর্নবাসনে সহযোগিতা করলে তারা আবার ঘুরে দাড়াতে পারবে বলে জানান মানবিক খায়রুল আলম। এই মানবিক কাজে কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন থেকে উৎসাহিত করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান সংস্থার চেয়ারম্যান।
মানবিক কাজে মানবতার পাশে এ মানবিক কাজে কবি খায়রুলের সাথে যুক্ত হয়ে মেজর জেনারেল মোঃ আশরাফুল ইসলাম (অব) বলেন আমি সত্যি সত্যিই ভিষণ আনন্দিত, এধরনের মানবিক কাজের সাথে আমাকে পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার উপদেষ্টা করায় খায়রুল আলমকে ধন্যবাদ জানাই।