এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে চুরি, ছিনতাই কিংবা অন্যান্য ঘটনায় হারিয়ে যাওয়া দামি স্মার্টফোন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পরে একটি সংঘবদ্ধ চোরাচালান সিন্ডিকেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় মোবাইলের দোকান এবং কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব ফোন ছড়িয়ে দিচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর নজরদারি ও পুলিশের নিয়মিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ মোবাইল জব্দ হলেও চক্রটির বড় অংশ এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকায় থামানো যাচ্ছে না এই অবৈধ ব্যবসা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তজুড়ে সক্রিয় চোরাকারবারি চক্রটি ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে চোরাই ও ব্যবহৃত স্মার্টফোন সংগ্রহ করে। এসব চালানে সবচেয়ে বেশি আসে আইফোন, স্যামসাং, ভিভো, অপো, রেডমি, শাওমি, রিয়েলমি ও ওয়ানপ্লাসসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন। চোরাকারবারিরা শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা, শাহাবাজপুর, তেলকুপি ও শিকারী বিওপি এলাকা, ভোলাহাট উপজেলার ভোলাহাট সীমান্ত, আজমতপুর এবং সোনামসজিদ স্থলবন্দরসংলগ্ন বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে মোবাইলগুলো দেশে নিয়ে আসে বলে জানা গেছে। সীমান্ত অতিক্রম করার পর মোবাইলগুলো সরাসরি বাজারে না এনে প্রথমে নিরাপদ স্থানে মজুদ করা হয়। পরে কানসাট, শিবগঞ্জ, মনাকষা, সাহাপাড়া, রানীহাটি, মহারাজপুর, রামচন্দ্রপুর, বারোঘরিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের সেন্টু মার্কেট, মহিপুর বাজার এবং নাচোল বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিভিন্ন মোবাইল বিক্রয় ও সার্ভিসিং দোকানে সরবরাহ করা হয়।তদন্ত
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিন্ডিকেটটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করে। একটি দল সীমান্ত দিয়ে মোবাইল এনে মজুদ রাখে, অন্য দল দোকান বা সার্ভিসিং সেন্টারের মাধ্যমে হাতবদল করে এবং আরেকটি দল ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে কম দামে বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে। বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েক হাজার থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কম দামে পাওয়া যায় বলে জেনেশুনেও অনেকেই এসব অবৈধ মোবাইল কিনছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চোরাচালান প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫৩ বিজিবির অভিযানে ২২৩টি ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৬টি মোবাইল কাস্টমসে এবং ২৭টি সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ৫৯ বিজিবির পৃথক অভিযানে আরও ১৭৮টি ভারতীয় মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করার পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক অবৈধ মোবাইল বিক্রির নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে এই সংঘবদ্ধ চোরাচালান সিন্ডিকেটের কার্যক্রম বন্ধ করা কঠিন হবে।