মোঃ আসিফুজ্জামান আসিফ নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র গ্যাস সংকট জনজীবনকে কার্যত বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বছরের পর বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ, পোশাক শ্রমিক, বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায়, যখন গ্যাসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তখন চুলায় আগুন না জ্বলায় রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কর্মজীবী মানুষ, নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নিয়মিতভাবে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নির্ধারিত গ্যাস বিল পরিশোধ করলেও বাস্তবে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। গ্যাসের পরিবর্তে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে এলপি গ্যাস (সিলিন্ডার) কিনে রান্নার কাজ চালাতে হচ্ছে। এতে সংসারের মাসিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে।
বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। সারাদিন কারখানায় কাজ শেষে বাসায় ফিরে রান্না করতে না পেরে অনেকেই বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের সীমিত আয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
অন্যদিকে, গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যেও প্রায়ই বিরোধের সৃষ্টি হচ্ছে। ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করছেন, গ্যাস বিল পরিশোধ করেও সেবা না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। আবার বাড়ির মালিকদের দাবি, তারা নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও সমস্যার কোনো সমাধান না হওয়ায় তারাও অসহায় অবস্থায় রয়েছেন।
এলাকাবাসী জানান, গত ২৪ মে ২০২৫ তারিখে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে সাভারে অবস্থিত তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। অভিযোগে দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসনের দাবি জানানো হলেও এক বছরেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ এতটাই কম থাকে যে চুলায় আগুন জ্বলে না। কখনো কখনো গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস এলেও তখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকেন। ফলে সেই গ্যাসও তাদের কোনো কাজে আসে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। দীর্ঘসূত্রতা ও অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষ চরম হতাশায় ভুগছেন।
শ্রীপুর এলাকার বাসিন্দারা অবিলম্বে গ্যাস সংকট নিরসনে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত বিল পরিশোধ করার পরও যদি নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তবে এটি ভোক্তা অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই দ্রুত তদন্ত করে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
"আমরা বিল দিচ্ছি, কিন্তু গ্যাস পাচ্ছি না। বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছি। আর কতদিন এভাবে কষ্ট করতে হবে?"— এমন প্রশ্ন এখন আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার হাজারো পরিবারের।