আব্দুল লতিফ সরকার,লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ, বাংলাদেশি সার, কীটনাশক ও পাট জব্দ করেছে বিজিবি।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য জানায় লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)।
বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ বিজিবির আওতাধীন চারটি বিওপির টহলদল পৃথকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করে।
এর মধ্যে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে হাতীবান্ধা উপজেলার ঝাউরানী বিওপির আওতাধীন খামারভাতী এলাকায় এবং ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা বিওপির আওতাধীন পশ্চিম রামখানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়।
বিজিবির টহলদল সন্দেহজনক কয়েকজন ব্যক্তির গতিবিধি লক্ষ্য করে তাদের ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা বহন করা মালামাল ফেলে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ঝাউরানী বিওপি এলাকা থেকে ৫০ বোতল এবং রামখানা বিওপি এলাকা থেকে ৯২ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। দুই অভিযানে মোট ১৪২ বোতল ইস্কাপ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া ২৮ আগস্ট বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি এলাকায় বাগভান্ডার বিওপির টহলদল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বাংলাদেশি সার ও অন্যান্য পণ্য ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ধাওয়া করা হয়। তারা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ২৫০ কেজি ইউরিয়া সার, ১০০ কেজি পটাশ সার ও কীটনাশক জব্দ করা হয়।
একই দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার বানিয়াটারী এলাকায় দিঘলটারী বিওপির টহলদল অভিযান চালায়। সেখানেও চোরাকারবারিরা বাংলাদেশি পাট ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাট ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৪৬০ কেজি বাংলাদেশি পাট জব্দ করা হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জব্দকৃত ১৪২ বোতল ভারতীয় ইস্কাপ সিরাপের সিজার মূল্য ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা। এছাড়া ২৫০ কেজি ইউরিয়া সার, ১০০ কেজি পটাশ সার ও কীটনাশকের সিজার মূল্য ১৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৪৬০ কেজি বাংলাদেশি পাটের সিজার মূল্য ৯২ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের মোট সিজার মূল্য ১ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টাকা।
বিজিবি আরও জানায়, চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম, পিএসসি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। চোরাচালান, মাদকপাচার এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও চোরাচালান ও মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।