মোহাম্মদ করিম লামা- আলীকদম প্রতিনিধি
বান্দরবানের লামা উপজেলা পাহাড়, অরণ্য ও দুর্গম জনপদবেষ্টিত একটি বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ দীর্ঘদিন ধরিয়া মাত্র ৫০ শয্যার সক্ষমতা নিয়েই চলিতেছে হাসপাতালটি। ফলে জনসংখ্যার তুলনায় চিকিৎসা অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা দিন দিন প্রকট হইয়া উঠিতেছে।
অপরদিকে, হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরিয়া নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় সংকটাপন্ন ও রেফার করা রোগীদের উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানান্তরে চরম দুর্ভোগ পোহাইতে হইতেছে বলিয়া স্থানীয়দের অভিযোগ। চকরিয়া, কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নেওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি সময়ে দ্রুত পরিবহন না পাওয়ায় জীবনঝুঁকি বাড়িতেছে। অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি যানবাহনের ওপর নির্ভর করিতে হয়।
একটি হিসাব অনুযায়ী, লামা উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৮০০ মানুষের বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি হাসপাতাল শয্যা। ফলে রোগীর চাপ বাড়িলে পর্যাপ্ত শয্যা পাওয়া কঠিন হইয়া পড়ে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষও এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল। জরুরি, প্রসূতি, শিশু ও দুর্ঘটনাজনিত চিকিৎসায় বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাইতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, জনসংখ্যা ও রোগীর চাপ বিবেচনায় লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দ্রুত ১০০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও জরুরি বিভাগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি অতি দ্রুত একটি আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হউক।
লামাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সহিত বিবেচনা করিয়া দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে। পাহাড়ি এই জনপদের মানুষের চিকিৎসার অধিকার নিশ্চিত করিতে একটি আধুনিক হাসপাতাল ও নিরবচ্ছিন্ন অ্যাম্বুলেন্স সেবা এখন সময়ের দাবি।