ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে প্রায় ৪০ হাত উঁচু সেতু থেকে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন এক সাহসী পুলিশ সদস্য। গতকাল রাত আনুমানিক ১০টা ০৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র শেখ হাসিনা ব্রিজে এই রোমাঞ্চকর ও মানবিক ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে চার বন্ধু মিলে শেখ হাসিনা ব্রিজে ঘুরতে যান উক্ত পুলিশ সদস্য। এ সময় হঠাৎ উপস্থিত লোকজনের চোখের সামনে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে এক তরুণী সেতু থেকে সোজা তিতাস নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশ সদস্য ও তাঁর বন্ধুরা তাৎক্ষণিকভাবে চিৎকার শুরু করে স্থানীয়দের সহায়তা চান। মুহূর্তে সেতুর ওপর ও নদীর পাড়ে প্রায় শতাধিক উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। তবে অন্ধকারের কারণে নদীর গভীরতা ও স্রোতের আশঙ্কায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ পানিতে নামতে সাহস পাননি।
উপস্থিত সবাই যখন দিশেহারা হয়ে স্রেফ দর্শক ভূমিকা পালন করছিলেন, তখন এক মুহূর্ত বিলম্ব না করে অনন্য সাহসিকতার পরিচয় দেন ওই পুলিশ সদস্য। নিজের চোখের সামনে একটি প্রাণ ঝরে যাওয়া রোধ করতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেতু থেকে প্রায় ৪০ হাত নিচে তিতাস নদীতে লাফিয়ে পড়েন। অন্ধকার ও তীব্র স্রোতের তোড় উপেক্ষা করে প্রবল সাঁতার কেটে নদীর গভীরে তলিয়ে যেতে থাকা তরুণীর কাছে পৌঁছান তিনি। পরবর্তীতে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও অদম্য প্রচেষ্টায় তরুণীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে অলৌকিকভাবে তীরে তুলে আনেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশ সদস্যের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। উপস্থিত জনতা জানান, কোনো প্রকার ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া এত ওপর থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া রীতিমতো জীবন বাজি রাখার শামিল। তাঁর এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও বীরত্বপূর্ণ কাজের কারণে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে একটি তাজা প্রাণ।
পুলিশ বাহিনীর এই সদস্যের মানবিক ও বীরত্বপূর্ণ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।