শেখ সাদী সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
বিপ্লব ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আশুগঞ্জ উপজেলা প্রধান সমন্বয়ক আমিনুল ইসলাম ডালিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলটিকে পুঁজি করে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পরও নতুন দলের প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক তথ্যের বরাতে জানা যায়, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আমিনুল ইসলাম ডালিমের কোনো সক্রিয় ভূমিকা ছিল না। উল্টো তিনি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের একজন সুবিধাভোগী দোসর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
কেউ কেউ বলছেন তিনি ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। এবং ছাত্রলীগের কমিটিতে থাকা আমিনুল ইসলাম নামটি গোপন করতেই তার নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার ও পরে ডালিম শব্দটি যোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি একটি ছবিকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বহুল আলোচিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডালিম। সেখানে তাকে আওয়ামী লীগের এমন এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ঠিক পেছনে বসে থাকতে দেখা যায়, যিনি বিগত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।
আন্দোলনে ছাত্রীদের ওপর হামলাকারী এবং বিগত স্বৈরাচারী সরকারের সুবিধাভোগী এমন এক ব্যক্তির সাথে আমিনুল ইসলাম ডালিমের এই প্রকাশ্য সম্পৃক্ততার সূত্র ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বিপ্লবীরা।
যে দল (এনসিপি) নিজেদের 'তথাকথিত বিপ্লবী ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি' হিসেবে দাবি করে, সেই দলের উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃত্বে কীভাবে একজন আওয়ামী লীগের দোসর ও হামলাকারীদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি জায়গা পেলেন—তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের কর্মীদের মাঝে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যে মেয়েটি বা শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাহসিকতার সাথে রাজপথে নেমে হামলা-মামলার শিকার হলো, তাদের ওপর নির্যাতনকারীদের পেছনের সারিতে বসা ব্যক্তি কীভাবে আজ বিপ্লবের বার্তা নিয়ে উপজেলার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন?
অভিযোগে বলা হচ্ছে, ৫ আগস্টের আগে যিনি আওয়ামী লীগকে পুঁজি করে নানা সুবিধা নিয়েছেন ও অপকর্ম করেছেন, তিনি এখন এনসিপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নতুন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়েও তার এই রূপবদল ও অপকর্ম থামেনি, বরং দল পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করছেন।
এই বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহল এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তারা বলছেন, দলের ভেতর লুকিয়ে থাকা এমন সুযোগ সন্ধানী এবং স্বৈরাচারের দোসরদের চিহ্নিত করে অতি দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিলে দলটির ভাবমূর্তি শুরুতেই মারাত্মক সংকটে পড়বে।