লিটন রানা শেরপুর প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো নিম্নআয়ের আদিবাসী শ্রমিক। শিল্প-কারখানাবিহীন এ উপজেলায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায়। ও বন্য হাতির আক্রমণে ফসলি জমিন নষ্ট হয়ে পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম অর্থনৈতিক সংকট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীসহ বিভিন্ন ঝর্ণা, খাল ও নদী থেকে বৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে অতীতে হাজারো আদিবাসী ও নিম্ন এর মানুষগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
ইজারার মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে শ্রমিক, ট্রাকচালক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে দীর্ঘদিন বালু মহল বন্ধ থাকার কারণে বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে পাথর উত্তোলনও বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সংকুচিত হয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বালু-পাথর উত্তোল নাহওয়ার কারণে কেউ কেউ কাজের সন্ধানে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছেন। আবার অনেকে ঋণ করে সংসার চালাচ্ছেন।
একাধিক বালু শ্রমিক বলেন, তারা সরকারকে রয়্যালটি দিয়ে বৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কাজ বন্ধ থাকায় এখন সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি, পরিবেশের ভারসাম্য ও সরকারি বিধিবিধান মেনে বৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হোক।
ইতোমধ্যে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে অনেক শ্রমিককে জেল-জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও তারা জানান।
বালু ব্যবসায়ীরা জানান, এলাকাভিত্তিক ও বৈধভাবে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হলে শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি ট্রাক মালিক, চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি ফিরবে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান বলেন, সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে এ উপজেলা থেকে খনিজসম্পদ,উত্তোলনের বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি।
কাংশা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি দুলাল মন্ডল বলেন সীমান্তবর্তী এলাকায় কর্মস্থল না থাকার কারণে বিভিন্ন শ্রমিকরা চোরা চালান ও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে অতি দ্রুত সরকারিভাবে বালু মহল উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও নদীর ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখে সরকারি নিয়মকানুন মেনে বৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হলে ঝিনাইগাতীর বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।