গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাজীকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে তার ছবি প্রকাশ করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কাজী মো. আব্দুল হাই সোমবার (২৪ আগস্ট) সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডি সূত্রে জানা গেছে, মো. আব্দুল হাই সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৩ নং তারাপুর ইউনিয়নের সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কাজী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মো. হোসেন আলীর ছেলে মতিয়ার রহমানের সঙ্গে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিবাহের কাবিননামা রেজিস্ট্রি করেন। পরবর্তীতে মতিয়ার রহমানের মৃত্যু হলে তার বাবা মো. হোসেন আলী ওই কাবিননামার নকল কপি চান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কাবিননামার নকল চাওয়ার বিষয়ে কাজী আব্দুল হাই তাকে বলেন, তার ছেলে মারা গেছেন, তাই কাবিননামা দিয়ে কী করবেন। এ কথার পর মো. হোসেন আলী তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন কাজী।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২২ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাক্ষী মো. সাইফুল ইসলাম (৩২) ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখতে পান। পরে তিনি কাজী আব্দুল হাইকে জানান, ওই সংবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তির মৃত ছেলে মতিয়ার রহমানের কাবিননামার সঙ্গে কাজীর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
কাজী আব্দুল হাইয়ের অভিযোগ, তার ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশের ঘটনায় তার সামাজিক মর্যাদা ও মানসম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি মো. হোসেন আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিডিতে আব্দুল হাই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেকোনো সময় তার প্রাণনাশ, হয়রানি কিংবা বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। ভবিষ্যতের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং বিষয়টি থানায় নথিভুক্ত করার জন্য তিনি জিডি করেন।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে আবেদন জানিয়েছেন কাজী মো. আব্দুল হাই।
সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।