নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি চীনের মহাপ্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি।” তার ভাষ্য, আন্দোলনের সময় সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের যে দৃশ্য তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, তা আজও তাকে অনুপ্রাণিত করে।
বুধবার (১ জুলাই) কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, শহীদদের স্মরণে প্রজ্বালিত মোমবাতির আলো শুধু শ্রদ্ধার প্রতীক নয়, বরং অন্যায় ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অঙ্গীকারও বহন করে। তিনি দাবি করেন, জুলাইয়ের আন্দোলন দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে নিহতদের আত্মত্যাগ কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার থাকতে অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী শাসনের প্রভাব এখনো সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়ে গেছে। তাই ছাত্রসমাজসহ সবাইকে সজাগ ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে প্রতিবছর ‘আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি শহীদদের আত্মত্যাগকে জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।