এনামুল হক নাসিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :
আষাঢ়ের তীব্র তাপদাহের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ, রোগী এবং শ্রমজীবী মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে জেলায় তাপমাত্রা বেশ উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি ও নেসকোর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে ৮ থেকে ১০ বারেরও বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। অনেক এলাকায় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, “এমনিতেই গরমে টিকে থাকা কঠিন, তার ওপর ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। এর প্রভাব পরদিনের কর্মজীবনেও পড়ছে। শিশুরাও গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।” আরেক বাসিন্দা শান্ত জানান, “বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ফ্রিজে রাখা পচনশীল খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চার্জার ফ্যানের চাহিদা বাড়লেও বিদ্যুৎ না থাকায় সেটিও ঠিকমতো চার্জ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।”
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, “বর্তমানে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭৮ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫৫ মেগাওয়াট। এ কারণে যেখানে চাহিদা বেশি, সেখানে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। আগামীতে লোডশেডিং বাড়বে কি না, তা সম্পূর্ণ চাহিদা ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করবে।”এদিকে, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন জেলার ভুক্তভোগী বাসিন্দারা। তাদের মতে, তীব্র গরমের এই সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে জনজীবনের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।