আব্দুর রউফ ভুঁইয়া:জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জে ভাড়া দেওয়া জমি ফেরত চাওয়ায় জোসনা আক্তার (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে তারই দেবর আব্বাস আলীর (৫৭) বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ৫ জুন উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের পশ্চিম জিনারাইল গ্রামে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মেয়ে মিনা আক্তার বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, উপজেলার পশ্চিম জিনারাইল গ্রামের মৃত আব্দুল ছোবহানের ছেলে ও ভুক্তভোগীর দেবর আব্বাস আলী এবং একই এলাকার মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে খায়রুল ইসলাম।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর আব্বাস আলী তার সহোদর বড় ভাই আব্দুল হাইয়ের জমি ভাড়া নিয়ে সেখানে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজ এবং মুদি দোকান গড়ে তোলেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে বড় ভাই ও ভাবি জমি ফেরত এবং বকেয়া ভাড়া দাবি করলে আব্বাস আলী ওই জায়গা নিজের বলে দাবি করেন।
এরই জেরে গত ৬ জুন অভিযুক্ত আব্বাস আলী ও খায়রুল ইসলাম দেশীয় অস্ত্রে সজ্জ্বিত হয়ে আব্দুল হাইয়ের বাড়িতে চড়াও হন। তারা ঘরে ঢুকে আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী জোসনা আক্তারের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এ সময় তাকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় মায়ের চিৎকার শুনে দুই ছেলে কামাল ও হৃদয় বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরকেও পিটিয়ে আহত করা হয়।
পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় জোসনা আক্তারকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
স্থানীয় প্রতিবেশী মোজাম্মেল হক জানান, আব্দুর হাই অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। কিন্তু তার ভাই আব্বাস আলী খুবই চতুর। বিদেশ থেকে ফিরে ভাইয়ের জায়গা ভাড়া নিয়ে এখন তা নিজের বলে দাবি করছে। ভাড়া ও জমি ফেরত চাওয়ায় সে দলবল নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভাবির মাথায় মারাত্মক আঘাত করেছে। জোসনা আক্তারের অবস্থা এখন খুবই আশঙ্কাজনক।
স্থানীয়রা আরও জানান, অভিযুক্ত আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। ইতোপূর্বে সে অন্য এক ব্যক্তির নাম রাশিদ বানিয়ে তার আরেক সহোদর ভাই আব্দুল রাশিদের জায়গা বিক্রি করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতে মামলা হলে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রায় পার পান আব্বাস।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম ভূঞা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।