মোঃ আকাশ,বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
দেশীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বান্দরবানে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) সকালে বান্দরবান সদর উপজেলার ধনেশ চত্বর সংলগ্ন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বান্দরবান পার্বত্য জেলার যৌথ আয়োজনে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বান্দরবানের উপ- পরিচালক আবু নঈম মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌস।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মোঃ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) তৌফিক আহমেদ নূর এবং অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) সুমন কুমার বসাক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা ফিতা কেটে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে তারা মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ফলের স্টল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মৌসুমি ও দেশীয় ফলের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় উদ্যোক্তা ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে ফল উৎপাদন ও বিপণন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
স্টল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতে ফল উৎপাদন একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাময় খাত। পার্বত্য অঞ্চলের জলবায়ু ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য নানা ধরনের দেশীয় ও বিদেশি ফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ফল চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, পুষ্টি ঘাটতি দূরীকরণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, ফলের বহুমুখী ব্যবহার ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে এ ধরনের মেলার আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর। সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে দেশে ফল উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে এবং কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করতে হবে।
তিন দিনব্যাপী এ মেলা আগামী ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। মেলায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। দর্শনার্থীরা দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির ফল, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভের সুযোগ পাচ্ছেন।
এ সময় সাংবাদিক, কৃষক, কৃষি উদ্যোক্তাসহ প্রায় একশো জনের মত অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ মেলা ফল চাষে কৃষকদের আরও আগ্রহী করে তুলবে এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।