আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্টঃ
যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা ও নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই নতুন এক বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ইরান। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও দেশবাসীর মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয় নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নামছে ইরানি ফুটবলাররা।
বিশ্বকাপে এটি ইরানের সপ্তম অংশগ্রহণ। ফুটবল বিশ্বে শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত হলেও এবারের আসরটি তাদের জন্য ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে এসেছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, ভ্রমণ জটিলতা, অনুশীলন সুবিধা নিয়ে সংকট এবং নানা প্রশাসনিক বাধার কারণে শুরু থেকেই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে দলটি।
জি গ্রুপে থাকা ইরান তাদের প্রথম ম্যাচ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। একই গ্রুপে রয়েছে বেলজিয়াম ও মিসর।
ইরান দলের অভিযোগ, অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দেশের তুলনায় তারা নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ভিসা জটিলতা থেকে শুরু করে অনুশীলনের সুযোগ—সবকিছুতেই বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি অনুশীলনের অনুমতি না পাওয়ায় মেক্সিকোকে প্রস্তুতি ক্যাম্প হিসেবে বেছে নিতে হয়েছে। ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে আবার ফিরে যেতে হচ্ছে দলটিকে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি বলেন, “এ ধরনের আচরণ ফুটবলের চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জয় বা পরাজয় যাই হোক, এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য সহজ নয়। তবে আমরা খেলোয়াড়দের মনোযোগ ফুটবলের মধ্যেই রাখার চেষ্টা করছি।”
দলের অন্যতম তারকা ফুটবলার মেহদি তারেমিও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “ফুটবল শান্তি ও আনন্দের বার্তা বহন করে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। বিশ্বকাপ আরও সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে পারত।”
সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনেও ফুটবলের চেয়ে রাজনৈতিক বিষয় বেশি আলোচিত হওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তারেমি। একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, “কেউ তো ফুটবল নিয়ে প্রশ্নই করলেন না!”
তবে সব প্রতিকূলতাকে পাশ কাটিয়ে ইরান দলের লক্ষ্য একটাই—দেশে ও দেশের বাইরে থাকা কোটি কোটি ইরানির মুখে হাসি ফোটানো এবং ফুটবলের মাধ্যমে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি ও আনন্দ বয়ে আনতেই বিশ্বকাপ মিশনে নামছে তেরেমি-ঘালেনোয়ির দল।