নিজস্ব প্রতিবেদক,
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর বাজারে দিন দিন বেড়ে চলেছে পেশাদার ভিক্ষুকদের সংখ্যা। বাজারের বিভিন্ন সড়ক, দোকানপাট, বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগমস্থলে প্রতিদিন অসংখ্য ভিক্ষুককে মানুষের কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাততে দেখা যায়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত অসহায় নন; বরং ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা কিংবা ব্যবসা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছু ভিক্ষুকের আর্থিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো হলেও সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় তারা ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে যারা সত্যিকার অর্থে দরিদ্র, প্রতিবন্ধী কিংবা অসহায়, তারা মানুষের সহানুভূতি ও সাহায্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, অনেক ভিক্ষুক প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে এসে বিভিন্ন দোকানে ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত হলেও ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়ছেন না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে।
ইসলামে অকারণে মানুষের কাছে হাত পাতাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষের কাছে তাদের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চায়, সে মূলত আগুনের ফুলকি (অঙ্গার) চায়। এখন সে তা কম নিক বা বেশি।” (সহিহ মুসলিম)
অন্যদিকে হজরত ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোনো ব্যক্তি সর্বদা মানুষের কাছে ভিক্ষা করতে থাকবে, যতক্ষণ না সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে যে, তার মুখের চামড়া বা মাংসের এক টুকরোও অবশিষ্ট থাকবে না।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
সচেতন মহল মনে করছে, প্রকৃত অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি-বেসরকারি সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি পেশাদার ভিক্ষাবৃত্তি নিরুৎসাহিত করতে প্রশাসন ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এতে প্রকৃত অভাবগ্রস্তরা তাদের প্রাপ্য সহায়তা পাবে এবং ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণের প্রবণতাও কমে আসবে।