নেত্রকোনা থেকে,কামরুল হাসান
পূর্ণবহুলের দাবি এলাকাবাসীর
নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত সভাপতি গেদু মিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন খারনৈ ইউনিয়ন বিএনপির তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সরেজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায়, খারনৈ ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত সভাপতি গেদু মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়াসহ বেশকয়েকজন শিশু কিশোরকে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসীরা। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন গেদু মিয়া বিএনপির একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তিনি বিগত সময়ে রাজনৈতিকভাবে নানা মিথ্যা মামলা, হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তারপরও দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীকে নিয়ে সামাজিক সম্প্রীতির মাধ্যমেই খারনৈ বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন। তার এই জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম সম্প্রতি নিজের বাড়িতে মদের চালান এনে পরিকল্পিতভাবে গেদু মিয়ার ছেলে হৃদয় সহ এলাকার বেশকয়েকজন শিশু কিশোরকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।
তারা আরো জানান যে, শফিকুল ইসলাম তার নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য এলাকাছাড়া বেশ কয়েক বছরযাবত।
খারনৈ ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত সভাপতি গেদু মিয়া জানান, ভূয়া সমিতি করে এলাকাবাসীর অর্থ আত্মসাত, মোটরসাইকেল চুরি ও মাদক চোরাচালানের মত নানা অপকর্মে সিদ্ধহস্ত শফিকুল ইসলাম। সামপ্রতিক সময়ে একটি দরবারে শফিকুল ইসলাম চোর সাব্যস্থ হলেও আমরা এলাকাবাসী তাকে ছাড় দিয়ে দরবার করে দিই, কিন্তু সে চেয়েছিল মোটরসাইকেল চুরির বিষয়টি যেন সামনে না আসে৷ এবিষয়ে আমরা স্থানীয়রা দরবারে যাওয়ায় সে ক্ষুব্ধ ছিল। যার ফলশ্রুতিতে সে নিজের বোনের বাসায় মদের চালান এনে কৌশলে আমাদের সন্তানদের নিয়ে মামলায় ফাঁসিয়েছে। মামলায় লেখা হয়েছে মাদক বিক্রির সময় হৃদয়সহ অন্যান্য শিশুদের হাতেনাতে পুলিশ ধরেছে। অথচ বাস্তবতা হলো পুলিশ আসার খবর শুনে তারা কৌতুহলবশত সেখানে যায়। তারা সেখানে গিয়ে দেখে শফিকুল ইসলামের বোনের বাড়ির পুকুর থেকে মদের বোতলগুলো তোলা হয়েছে। পরে কৌশলে সেখানে উপস্থিত শিশু কিশোরদের ফাঁসিয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আর এ মামলাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয় পরিকল্পিতভাবে। একপর্যায়ে দলীয় পদ থেকে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আমার ছেলে হৃদয়ের সম্প্রতি পেটে অপারেশন করা হয়েছে, সে কোনরকম চলাফেরা করতে পারে। আমরা রাজনীতি করি বলে কি আমাদের পরিবারের সন্তানরা-ও নোংরা ষড়যন্ত্রের শিকার হবে? আপনারা যাচাই-বাছাই করুন কে দোষী। আমরা সঠিক তদন্তের দাবি জানাই।
এবিষয়ে শফিকুল ইসলামের বোন হাফসা বেগম জানান, কে বা কারা মদের বোতলের চালান এনেছে আমি জানিনা। আমার ভাই শফিকুল ইসলামের পরিত্যক্ত ভিটায় একটি বস্তা পরে থাকতে দেখে আমি সেটি আমার বাড়িতে এনে পুকুরে ডুবিয়ে রাখি। পরে শফিক ভাইকে জানালে তিনি পুলিশ পাঠান। যখন বাড়িতে পুলিশ আসে এর খবর পেয়ে স্থানীয় শিশু কিশোরেরা ভীড় করে। ভীড়ের মধ্যে এক দুইজনের সাথে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয়, পরে পুলিশ তাদের কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায়, আমি এটুকুই জানি।
মদের বোতল ছিল শফিকুল ইসলামের বোনের বাড়ির পুকুরে কিন্তু মামলা দেওয়া হলো প্রতিবেশী শিশু কিশোরদের এমনকি মামলায় লেখা হলো মাদক বিক্রির সময় হাতেনাতে তাদেরকে ধরা হয়েছে যেখানে হাফসা বেগম বলছেন যে মদের বোতল গুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে এমনটি কেন হলো এমন প্রশ্নের জবাবে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজল সরকার জানান যে, মামলার র এজাহারটি আমি দেখিনি তবে আসামী হৃদয় পলাতক আছে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।