মোঃ জহির খান,বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে থানা পুলিশ। বিশেষ অভিযানে ১ লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সীতাকুণ্ড ও আশপাশের এলাকায় মাদক সরবরাহ ও পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মাদক কারবারে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত ইয়াবাগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মাদক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীতাকুণ্ডে এটি অন্যতম বড় মাদক উদ্ধার অভিযান। বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় মাদক ব্যবসার বিস্তার ও চক্রগুলোর সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশের সফল অভিযানে সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং মাদক নির্মূলে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মাদক চোরাচালান, মজুদ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীতাকুণ্ডে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা প্রমাণ করে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক নিয়ন্ত্রণে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তারা পুলিশের এ সফল অভিযানের প্রশংসা করেন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস, সরবরাহকারী ও এর সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।