মো. শাহীন আলম গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা-এ মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও যুবকের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার ( ৯ জুন ) বিকেলে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের গাজীর মোড় এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। বক্তারা দাবি করেন, মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফলগাছা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কারবার ও মাদক সেবনের অভিযোগ রয়েছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থী ও যুবক এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করলে তাদের সঙ্গে কথিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মাদক বিক্রির সময় ফারুক নামের এক ব্যক্তিকে আটক করতে গেলে শিক্ষার্থী ও যুবকরা হামলার শিকার হন। পরে ওই ব্যক্তি ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৮-৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার কর্মকাণ্ডে তরুণ সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো মাদক প্রতিরোধে সক্রিয় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের যদি মামলার মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত হবে না। তারা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্তকরণ এবং এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নজমুল হুদা, উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম, জহুরুলহাট হাজী এলাহী উচ্চ বিদ্যালয়-এর প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বাদশা, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা শফিকুল ইসলাম শামীম, উপজেলা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি সামিউল ইসলাম, ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এবং অভিভাবক বিপ্লব মিয়া প্রমুখ।
এদিকে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নিজেকে সাধক পরিচয়দানকারী ফারুক সরকারকে গাঁজাসদৃশ পদার্থ সেবন করতে দেখা যায় বলে স্থানীয়দের দাবি। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে ফারুক সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও নাকচ করেন।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানা-র পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু ইকবাল পাশা বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।
স্থানীয়দের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার শিক্ষার্থীদের হয়রানি নয়, বরং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা হোক এবং এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।